সর্বশেষ

» আজ শেষ হচ্ছে ১৬১টি ইউপি নির্বাচনের প্রচার, সোমবার ভোট

প্রকাশিত: ১৮. সেপ্টেম্বর. ২০২১ | শনিবার

চেম্বার ডেস্ক:: আজ শনিবার রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে প্রথম ধাপের স্থগিত ১৬১টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও ৯টি পৌরসভা এবং স্থানীয় সরকার পরিষদের কয়েকটি উপনির্বাচনের নির্বাচনী প্রচার। আগামী সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে এসব নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেওয়া হবে। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করতে হয়। সে হিসাবে ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টায় প্রচার কাজ বন্ধ করতে হবে। এ সময়ের পর প্রার্থী বা সমর্থকদের কেউ কোনো ধরনের প্রচারণা চালাতে পারবেন না।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব আসাদুজ্জামান বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে নেমেছেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন। এ ছাড়া ভোট দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে ছুটি নিতে পারবেন ভোটাররা।

 

নির্বাচনী এলাকায় যেসব যান চলাচল বন্ধ
আজ রাত ১২টা হতে ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া ভোটের আগের দিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা হতে ভোটের দিন ২০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় ট্রাক ও পিকআপ, লঞ্চ, স্পিডবোট এবং ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া জরুরি সেবাসহ অন্যান্য পরিবহন চলাচল করতে পারবে।

 

যেসব ইউনিয়নে ভোট
২০ সেপ্টেম্বর দেশের ৬টি জেলার ২৩টি উপজেলার ১৬১টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ হবে। ১৬৭টি ইউপির ভোট স্থগিত হলেও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের মৃত্যুজনিত কারণে পাঁচটি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভোট এই মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হবে না।

 

ওই দিন যেসব ইউপিতে ভোট হবে সেগুলো হলো- খুলনা কয়রার আমাদি, বাগালী, মহেশ্বরীপুর, মহারাজপুর, কয়রা, উত্তর বেকাশী ও দক্ষিণ বেদকাশী। দাকোপের পানখালী, দাকোপ, লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ, সুতারখালী, কামারখোলা, তিলডাঙ্গা, বাজুয়া ও বানিশান্তা। বটিয়াঘাটার গংগারামপুর,বালিয়াডাঙ্গা ও আমিরপুর। দিঘলিয়ার গাজীরহাট, বারাকপুর, দিঘলিয়া, সেনহাটা, আড়ংঘাটা, যোগীপুল।

 

পাইকগাছার সোলাদানা, রাড়ুলী, গড়ইখালী, চাঁদখালী, দেলুটি, লতা ও কপিলমুনি।

 

বাগেরহাট ফকিরহাটের বেতাগা, লখপুর, পিলজংগ, ফকিরহাট, বাহিরদিয়ামানসা, নলধা মৌভোগ ও শুভদিয়া। মোল্লাহাটের উদয়পুর, চুনখোলা, কোদালিয়া, আটজুড়ি, গাওলা ও কুলিয়া। চিতলমারীর বড়বাড়ীয়া, হিজলা, শিবপুর, চিতলমারী, চরবানিয়ারী, কলাতলা ও সন্তোষপুর। কচুয়ার গজালিয়া, ধোপাখালী, মঘিয়া, গোপালপুর, রাড়ীপাড়া ও বাধাল। রামপালের গৌরম্ভা, বাইনতলা, হুড়কা, মল্লিকের বেড়, বাঁশতলী, উজলপুর, রামপাল, পেড়িখালী ও ভোজপাতিয়া। মোংলার চাঁদপাই, বুড়িরডাংগা, চিলা, মিঠাখালী, সোনাইলতলা ও সুন্দরবন। মোরেলগঞ্জের পঞ্চকরন, দৈবজ্ঞহাটী, চিংড়াখালী, হোগলাপাশা, বনগ্রাম, বলইবুনিয়া, হোগলাবুনিয়া, বহরবুনিয়া, নিশানবাড়ীয়া, মোরেলগঞ্জ, তেলিগাতী, পুটিখালী, রামচন্দ্রপুর, জিউধরা, বারইখালী। শরণখোলার ধানসাগর, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা, সাউথখালী। বাগের সদরের বারুইপাড়া, বেমরতা, বিষ্ণুপুর, ডেমা, কাড়াপাড়া, খানপুর ও রাখালগাছি।

 

সাতক্ষীরা কলারোয়ার কয়লা, হেলাতলা, যুগীখালী, জয়নগর, জালালাবাদ, লাঙ্গলঝাড়া, কেঁড়গাছি, সোনাবাড়িয়া, চন্দনপুর ও দেয়াড়া। তালার ধানদিয়া, তেঁতুলিয়া, তালা, ইসলামকাটি, মাগুরা, খেসরা, জালালপুর, খলিলনগর, নগরঘাটা, সরুলিয়া ও খলিষখালী।

 

নোয়াখালী সুবর্ণচরের চরবাটা, চরক্লার্ক, চরওয়াপদা, চর আমানউল্যাহ, পূর্বচরবাটা ও মোহাম্মদপুর। হাতিয়ার মুছাপুর, চরহাজারী। হাতিয়ার চর ঈশ্বর, চরকিং, তমরদ্দি, সোনাদিয়া, বুড়িরচর, জাহাজমারা ও নিঝুমদ্বীপ।

 

চট্টগ্রাম সন্দ্বীপের বাউরিয়া, গাছুয়া, সন্তোষপুর, আমানউল্ল্যা, হরিশপুর, রহমতপুর, আজিমপুর, মুছাপুর, মাইটভাঙ্গা, সারিকাইত, মগধরা ও হারামিয়া।

 

কক্সবাজার মহেশখালীর হোয়ানক, মাতারবাড়ী ও কুতুবজোম। কুতুবদিয়ার আলীআকবরডেইল, বড়ঘোপ, দক্ষিণধুরং, কৈয়ারবিল, লেমশীখালী ও উত্তরধুরুং। পেকুয়ার টেটং। টেকনাফের হ্নীলা, সাবরাং, টেকনাফ ও হোয়াইক্যং।

 

প্রথমধাপে দেশের ১৯টি জেলার ৬৪টি উপজেলার ৩৭১টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তফসিল ঘোষণা করেছিল ইসি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১১ এপ্রিল এসব নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনা বেড়ে যাওয়ায় ওই নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে গত ২১ জুন স্থগিত ইউপির মধ্যে ২০৪টির ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আর সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর হবে ১৬১টি ইউপির।

 

এ বিষয়ে ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, চলতি মাসের শেষদিকে আরও একটি কমিশনসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেই সভায় বাকি ইউপি নির্বাচনের তফসিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

 

তিনি বলেন, কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ বছর ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের চার হাজার ইউপি নির্বাচন শেষ করবে। তবে কয়টি ধাপে নির্বাচন শেষ হবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরবর্তী সময় বসে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

[hupso]

সর্বশেষ