সর্বশেষ

» কানাইঘাট রাজাগঞ্জে দুই সন্তানে জননী প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৭. ফেব্রুয়ারি. ২০২৬ | মঙ্গলবার

কানাইঘাট প্রতিনিধি: কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ী খালপার গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রী দুই সন্তানের জননীকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। থানায় কোন প্রতিকার না পেয়ে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিবারের লোকজন।

অভিযোগে জানা যায়, তালবাড়ী খালপার গ্রামের সৌদিআরব প্রবাসী আবুল কালামের স্ত্রী সুহাদা বেগম (৩৮) এর সাথে দীর্ঘদিন থেকে জ্যা জিলেখা বেগমের জমিজমা সহ পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল।

সুহাদা বেগমের ছেলে কোরআনে হাফেজ রেজওয়ান আহমদ জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তার মাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য চাচী জিলেখা বেগম ও তার ছেলে ফয়ছল আহমদ বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে আসছিল।

গত বুধবার জিলেখা বেগম ও তার ছেলে ফয়ছল সুহাদা বেগমকে গালিগালাজ করে প্রাণে হত্যা করার হুমকি দেয়। এর ১দিন পর শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে সুহাদা বেগমের ছেলে রেজওয়ান আহমদ ও কামরান আহমদ স্থানীয় মসজিদে জুমআর নামাজ পড়তে যান। নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে ছেলেরা দেখতে পান পাকা বসত ঘরের স্টীলের দরজার ভিতর দিকে লাগানো। মাকে বার বার ডাকার পরও দরজা না খোলায় রান্না ঘরের দরজা খোলা দেখে ভিতরে প্রবেশ করে রেজওয়ান দেখতে পায় তার মায়ের লাশ ঘরের তীরের সাথে ঝুলে আছে। সুহাদা বেগমের গলায় শাড়ির আচল প্যাচানো থাকলে তার দু’পায়ের হাটু খাটের বালিশের সাথে লেগে ছিল। মায়ের লাশ দেখে চিৎকার দিলে বাড়ি সহ আশপাশের অনেকে এগিয়ে এসে সুহাদা বেগমের লাশ দেখলেও চাচী জিলেখা বেগম ও তার ছেলে ফয়ছল আহমদ লাশ দেখতে আসেনি বলে রেজওয়ান জানায়।

সুহাদা বেগমের আত্মীয়-স্বজনরা সেখানে ছুটে গেলে চাচী জিলেখা বেগম ও তার ছেলে ফয়ছল একেক সময় একেক কথা বলতে থাকে। ঘটনার সংবাদ জানানো হলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানার এস.আই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে সুহাদা বেগমের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেন।

সুহাদা বেগমের ছেলে রেজওয়ান এবং ভাই দেলোয়ার, মামাতো ভাই ইসলাম উদ্দিন সহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সুহাদা বেগমকে তার জ্যা জিলেখা বেগম ও তার ছেলে ফয়ছল আহমদ, মেয়ে নাজমিন আক্তার ও মেয়ের জামাই আলী আহমদ জুমআর নামাজের সময় পরিকল্পিত ভাবে শ^াসরুদ্ধ করে হত্যা করে লাশ শাড়ি দিয়ে গলায় প্যাচিয়ে তীরের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে।

তারা এমন অভিযোগ এনে উল্লেখিত ৪ জনকে আসামী করে গত রবিবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ অভিযোগটি আমলে নেয়নি। পুলিশ অপমৃত্যু মামলা নিয়ে পরবর্তীতে ময়না তদন্তের রিপোর্টের পর হত্যা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে বলে তাদেরকে জানিয়েছে।

সুহাদা বেগমের স্বামী সৌদি আরব প্রবাসী আবুল কালাম তার স্ত্রীকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যা উল্লেখ করে জিলেখা বেগম ও তার ছেলে ফয়ছল, মেয়ে নাজমিন ও মেয়ের জামাই আলী আহমদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। থানায় কোন প্রতিকার না পেয়ে সুহাদা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে সিলেটের বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করবেন বলে তার মামাতো ভাই ইসলাম উদ্দিন জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে লাশ উদ্ধারকারী থানার এস.আই হাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সুহাদা বেগম আত্মহত্যা করেছেন বা তাকে হত্যা করা হয়েছে তা এখন বলা যাচ্ছে না। ময়না তদন্তের রিপোর্টের পর এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় অনেকে জানিয়েছেন, সুহাদা বেগমের সাথে জুলেখা বেগম ও তার ছেলে ফয়ছল এর বাড়ির জমিজমা সহ পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। তাই সুহাদা বেগমকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা সাজানো হতে পারে, বিষয়টি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করার দাবী জানিয়েছেন।

           

সর্বশেষ

আর্কাইভ

March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031