সর্বশেষ

» বিয়ানীবাজারে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেপরোয়া বখাটেরা

প্রকাশিত: ০৩. মে. ২০২৫ | শনিবার

বিশেষ প্রতিবেদক: সিলেটের বিয়ানীবাজারে রাজনৈতিক ছত্র-ছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে একাধিক বখাটে গ্রুপ ৷ রাজনৈতিক প্রভাবের ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে তারা। ফলে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা আতংকিত হয়ে পড়ছেন।

বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়,বিয়ানীবাজার উপজেলার খাসা,সুপাতলা,নওয়াগ্রাম,ফতেহপুর সহ কিছু এলাকায় বখাটে এবং কিশোর গ্যাংদের দৌরাত্ব আশংকাজনক হারে বাড়ছে। আর এসব গ্রুপের সদস্যরা ঢাল হিসেবে বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয় বহন করছে। বিশেষ করে গত বছরের ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর থেকে বখাটে এসব গ্রুপের সদস্যরা নিজেদের বিএনপি,যুবদল এবং ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। ভুক্তভোগী কয়েকজন জানিয়েছেন,স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বখাটে গ্রুপের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাকে শেল্টার (আশ্রয়) দিচ্ছেন।

অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলে জানা যায়,বখাটেদের সবচেয়ে বৃহৎ গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের খাসা গ্রামের তাহমিদ হোসেন নামে এক যুবক। সে স্থানীয় প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার ছেলে। বাবার রাজনৈতিক শেল্টারে সে পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তার সহযোগী হিসেবে নেতৃত্ব পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে তারই বন্ধু শাকিল আহমদ।

এ ছাড়াও তাহমিদের গ্রুপে সুমন আহমদ,তারেক আহমদ,নাইম উদ্দিন,সালেহ আহমদ ও মারজান নামে কয়েকজন যুবক সম্পৃক্ত রয়েছে। এ গ্রুপের অধিকাংশ সদস্যই নিজেদেরকে বিএনপি পরিবারের সদস্য বলে পরিচয় দেয়। এর মধ্যে তাহমিদ এবং শাকিল নিজেদেরকেও ছাত্রদল নেতা হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ পুরো বিয়ানীবাজার পৌর শহরে ব্যাপক আধিপত্য বিস্তার করেছে।

তথ্য নিয়ে জানা যায়,তাহমিদ এবং শাকিলের বিরুদ্ধে গত বছরের আগষ্টে বিয়ানীবাজার থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছিল। পৌরশহরের খাসা গ্রামের একেএম শাহীন তাপাদার নামে এক ব্যক্তি তার কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি করেছিলেন। গত এপ্রিল মাসে মূল অভিযুক্ত তাহমিদ এবং তার বন্ধু শাকিলের নাম বাদ দিয়ে পুলিশ এই মামলার চার্জশীট (তদন্ত প্রতিবেদন) দাখিল করেছে। মূলত রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাহমিদ এবং শাকিলকে মামলা থেকে দায়মুক্তি দিয়ে পুলিশ চার্জশীট দাখিল করেছে বলে অভিযোগ বাদী পক্ষের।

ধর্ষণ মামলা ছাড়াও তাহমিদ এবং তার বাবার বিরুদ্ধে যে কয়েকটি মামলা ছিল-৫ আগষ্টের পর রাজনৈতিক বিবেচনায় সেগুলোও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে৷ মামলা থেকে মুক্ত হওয়ায় এলাকায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তাহমিদ আহমদ,শাকিল আহমদ ও তাদের সহযোগিরা। তাদের দৌরাত্ব এবং অপকর্মে স্কুল,কলেজ ও মাদরাসার নারী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। এ বিষয়টি অভিভাবকদেরকেও ভাবিয়ে তুলেছে।

হামলা,মামলা,অপহরণ ও ধর্ষণের ভয়ে বখাটেদের বিরোদ্ধে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বড় ধরণের কোনো কর্মসূচীও পালন করতে সাহস করছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক বখাটেদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন৷

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আহমদ রেজা বলেন,’বিএনপি অনেক বড় দল। সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করা একটু কঠিন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপির নাম ব্যবহার করে অনেকে অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। যাদের বিরোদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসবে তাদের বিরুদ্ধে দল অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

যোগাযোগ করা হলে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন,’পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। আমরা বলপ্রয়োগ করতে চাচ্ছি না। এই সুযোগে অনেকে নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালাচ্ছেন।তবে,শীঘ্রই আমরা আরো তৎপর হবো এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে যা যা করা প্রয়োজন তা করব।’

           

সর্বশেষ

আর্কাইভ

June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930