সর্বশেষ

» বিয়ানীবাজার কলেজে জামায়াত-শিবিরের বাঁধায় বন্ধ করা হলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

প্রকাশিত: ১৬. ডিসেম্বর. ২০২৪ | সোমবার

নিজস্ব সংবাদদাতা: বিয়ানীবাজারে জামায়াত-শিবির এবং হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের বাধায় বাতিল করা হয়েছে বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আজ সকালে বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

জানা যায়,বিজয় দিবস উপলক্ষে কলেজের শহীদ মিনারে নাটক এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ‘বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ড’ নামের একটি সংগঠন। সকাল ১০ টা থেকে অনুষ্ঠান শুরু করতে তারা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন।

অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ পূর্বে জামায়াত-শিবির এবং হেফাজতের নেতাকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাসে একত্রিত হয়ে নাটক বন্ধের দাবীতে বিক্ষোভ শুরু করেন। কলেজ প্রশাসনের কাছে তারা এই অনুষ্ঠানটিতে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের দাবী জানাতে থাকেন। একইসাথে ‘সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের’ নামে শহীদ মিনারে অনৈসলামিক কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না বলেও তারা হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন। এসময় উভয় পক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

জামায়াত-শিবিরের দাবীর প্রেক্ষিতে একপর্যায়ে শহীদ মিনারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা প্রদানে বাধ্য হয় কলেজ প্রশাসন। ১০ টার পূর্বেই পুলিশ উপস্থিত সাংস্কৃতিক কর্মী এবং আগত দর্শকদেরকে শহীদ মিনার থেকে তাড়িয়ে দেয়৷

এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শিক্ষক,ছাত্র,রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা এ ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছেন। বিজয় দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাঁধাদানের ঘটনাতে বিস্ময় প্রকাশ করে অনেকে বলছেন,এটি উগ্র-ফ্যাসিবাদী আচরণ। ইসলামী সংগঠনগুলোর দাবীর প্রেক্ষিতে কলেজ প্রশাসন এই অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা উচিত হয়নি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনুষ্টানের আয়োজক,বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ডের কলেজ শাখার পরিচালক তারেক হোসেন বলেন,’বিজয় দিবস উপলক্ষে আমরা শহীদ মিনারে নাটক এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলাম। উগ্র-মৌলবাদী গোষ্টি জামায়াত-শিবির এবং হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা সেটা সহ্য করতে পারেনি। কারণ,তারা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি। তারা বাংলাদেশের বিজয়কে এখনো মেনে নিতে পারেনি। তাই জামায়াত-শিবির এবং উগ্র হেফাজত কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। তাদের হুমকি এবং চাপে কলেজ প্রশাসন আমাদের অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে৷ ফলে আমরা এত প্রস্তুতির পরও অনুষ্টানটি সফল করতে পারিনি।’

অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম বলেন,’অনুষ্ঠান আয়োজক এবং একদল শিক্ষার্থী মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছিল। তাদের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছিল। পরিস্থিতি শান্ত রাখার স্বার্থে নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করার ঘোষণা দিতে হয়েছে।’

           

সর্বশেষ

আর্কাইভ

February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728