» দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চলছে : ফখরুল

প্রকাশিত: ০৮. নভেম্বর. ২০২০ | রবিবার

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশে আজ একদলীয় শাসনব্যবস্থা চলছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’ ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার দলের নেতাকর্মীসহ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে বিএনপির মহাসচিব সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

 

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ক্যান্টনমেন্টের বন্দিদশা থেকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয় সিপাহি-জনতা। বিএনপির দাবি, সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আধিপত্যবাদ ও একদলীয় শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে। তাই বিএনপি এই দিনটিকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। দিবসটি উদযাপনে শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতসহ বিএনপি নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

 

ফখরুল বলেন, ‘দেশ আজ পঁচাত্তরের পূর্ববর্তী একনায়কতন্ত্র শাসনে ফিরে গেছে। এ অবস্থা থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনগণকে শপথ নিতে হবে।’

 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে ৭ নভেম্বর থেকেই এ দেশে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল এবং তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। এই ঐতিহাসিক দিবসটি স্মরণ করার জন্য আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এসেছি।’

 

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকের এই দিনটি বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৫-এর পূর্বে দেশে যে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, জনগণের অধিকারকে হরণ করা হয়েছিল; আজকে আবার ঠিক একই কায়দায় বাংলাদেশের জনগণের অধিকার হরণ করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। সে জন্য আমরা আজকে শপথ নিয়েছি, গণতন্ত্রকে উদ্ধার করব। এই গণতন্ত্রের সংগ্রামকে অবশ্যই জয়ী করব ইনশাআল্লাহ।’

 

আজ বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাঁরা নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

 

এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, ছাত্রদল, তাঁতীদল ও মৎস্যজীবী দলসহ অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান ও হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহসভাপতি গোলাম সরোয়ার, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা তকদির হোসেন মোহাম্মাদ জসিম, হাজি মোজাম্মেল হক মিন্টু সওদাগার, কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সিনিয়র সহসভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।

[hupso]

সর্বশেষ