সর্বশেষ
|
প্রকাশ: রবিবার, আপডেট : ২৪ মে ২০২০ ০১:০৫ ঘণ্টা

কানাইঘাটে করোনা রোগীরা কোয়ারেন্টিন মানছেন না, ঝুঁকিতে উপজেলাবাসী

কানাইঘাট প্রতিনিধি: কানাইঘাট উপজেলা করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা বারবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। তারপরও জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতার অভাবে কানাইঘাটে করোনা রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। শুধু তাই নয়, যারা আক্রান্ত হয়েছে তারাও ঠিকমত মানছেন না কোয়ারেন্টিন বিধি নিষেধ।

 

এমন বাস্তবতায় বড় ধরনের করোনা ঝুঁকির দিকে ধাবিত হচ্ছে প্রান্তিক জনপদ কানাইঘাট।

 

কানাইঘাট উপজেলায় গত শুক্রবার (২১ মে) সর্বোচ্চ ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হন। আক্রান্তদের মধ্যে উপজেলার পশ্চিম সর্দারমাটি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে ফরহাদ (২৮), দর্জিমাটি গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে মিজান (২০), ব্রাহ্মণগ্রাম গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে জাকির আহমদ (২৫) গাজীপুরে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। এ ৩ জনসহ মোট ১৪ জন গত ১৪ মে একটি প্রাইভেট গাড়ীযোগে গাজীপুর থেকে কানাইঘাট উপজেলায় তাদের নিজ নিজ বাড়িতে আসেন।

 

গাজীপুর ফেরত ১৪ জনের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত ফরহাদ, মিজান ও জাকিরসহ কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেন। এর মধ্যে অধিকাংশই এখনও নমুনা দেন নি বলে জানা গেছে। একই দিনে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসা পৌরসভার রায়গড় গ্রামের জ্যেতির ভূষন চৌধুরীর ছেলে, মা-মণি ডায়গনস্টিক সেন্টারের ল্যাবে টেকনিশিয়ান দ্বীপ চৌধুরী, আজাদ ডায়গনস্টিক সেন্টারের ল্যাব টেকনিশিয়ান পাবনার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন, সদর ইউনিয়নের বীরদল পুরানফৌদ গ্রামের অনিল দাসের পুত্র হাসপাতালের অবস্থিত রাহুল ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী অজিত দাস (৩০) ও লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির কুওরঘড়ি গ্রামের ফরিদ আহমদের ছেলে সুলতান আহমদ (২৫) আক্রান্ত হন। এ নিয়ে উপজেলায় মোট করোনা আক্রান্ত্রের সংখ্যা ১২ জন এবং সুস্থ ১ জন হয়েছেন।

 

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে- করোনার পজেটিভ রিপোর্ট আসা অনেকেই হোম কোয়ারেন্টিন সঠিকভাবে মানছেন না। এমনকি তাদের পরিবারের সদস্যরা এলাকায় অবাধ বিচরণ করছেন বলে বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর আসছে। এছাড়া করোনার ডেঞ্জারজোন গাজীপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন কানাইঘাটে অবাধে আসছেন। ব্যবসা বাণিজ্য সচল থাকায় হাট-বাজারগুলোতে মানুষের ভীড় বেড়েছে। সর্বত্রই রয়েছে অসচেতনতার অভাব।

 

কানাইঘাট থানা পুলিশ মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন ও করোনা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে উপজেলাবাসীকে সচেতন করার জন্য কাজ করে গেলেও পুলিশ যেখানে যায় সেখানে কিছুক্ষণের মধ্যে লোকজন সরে যান, আবার ভীড় করেন।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. শেখ শরফুদ্দিন নাহিদ জানিয়েছেন- ‘তার হাসপাতালে কর্মরত একজন ডাক্তার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তারপরও কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সরা কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা বেড়েই চলছে। শনিবার (২৩ মে) হাসপাতালে ৩৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে গাজীপুর সহ অন্যান্য এলাকা থেকে কানাইঘাটে ফেরত আসা। এছাড়া কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত পরিবারের সদস্য। যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে এসে নমুনা দেওয়ার জন্য আমরা বলেছি।’

 

করোনায় আক্রান্ত অনেকে কোয়ারেন্টিন মানছেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলে বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খান ও থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএমকে জানিয়েছি। কারণ, আমরা চিকিৎসা দিব, করোনায় আক্রান্তদের পরিবারকে সেইফ রাখা অনেকটা প্রশাসন ও থানা পুলিশের কাজ। আজ (শনিবার) রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কানাইঘাটে করোনায় কারো পজেটিভ রিপোর্ট আসেনি বলে তিনি জানান।