সর্বশেষ
|
প্রকাশ: বুধবার, আপডেট : ১৩ মে ২০২০ ০৬:০৫ ঘণ্টা

করোনা ভাইরাস: নিবেদিত প্রাণ একদল চিকিৎসকের গল্প

চেম্বার প্রতিবেদক:

  • মানবতাবাদী একজন তরুণ চিকিৎকের একটি উদ্যোগ, একটি দল। এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসক থেকে শুরু করে দলটিতে আছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এসব মানবতবাদী চিকিৎসকরা পাশে দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের। কোনো প্রকার ফি নিচ্ছেন না, যখন প্রয়োজন তখনি পাশে দাঁড়াচ্ছেন গৃহবন্দী মানুষের। দিনরাত দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা পরামর্শ। করোনার এই বিপদকালীন সময়ে চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গড়া উঠা ‘করোনা হেল্প লাইন’ গ্রুপের কথাই বলছি।

 

 

পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে গ্রুপটির দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করলেই চিকিৎসক সরাসরি কথা বলছেন দিচ্ছেন প্রয়োজনী পরামর্শ। বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আছেন এই গ্রুপে। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে শুরু করে মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের চেয়ারম্যানরাও পর্যন্ত আছেন গ্রুপটিতে। বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ান এবং সার্জন এর অধীনে পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স করা চিকিৎসকরাও আছেন এই দলে।

 

ফোন করলেই মিলছে চিকিৎসা সেবা, পাশাপাশি অনলাইনেও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। Corona Helpline গ্রুপের মেসেঞ্জারে রোগীরা, তাদের স্বজনরা যোগাযোগ করলে পাচ্ছেন প্রয়োজী চিকিৎসা পরামর্শ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবকুের গ্রুপটিতে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে অনেকেই তাদের রোগীর বর্ণনা লিখে পরামর্শ চাচ্ছেন। চিকিৎসকরা কখনো নিচের কমেন্ট বক্সে পরামর্শ লিখে দিচ্ছেন আবার কখনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে দিচ্ছেন অলনাইন ব্যবস্থাপত্র। টেলিমেডিসিন সেবার পাশাপাশি রোগীরা ও তাদের স্বজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎকদের কাছ থেকে বিনা মূল্যে অনলাইন সেবাও পাচ্ছেন।

 

‘Corona Helpline’ গ্রুপটির প্রধান হিসেবে আছেন ডা. সুজন চন্দ্র পাল। সিলেট নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করা তরুণ এই মানবতাবাদী চিকিৎসক রয়্যাল হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টারের ডক্টর ইনচার্জ(এমবিবিএস (পিজিটি, নিওনোটলজি)। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এসএনপি স্পোর্টস অ্যান্ড সোস্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গনাইজেশন পরিচালিত সরকারী শিশু পরিবার (বালক), বাগবাড়ী সিলেটের স্পোর্টস দলের নিয়মিত চিকিওসকও সুজন চন্দ্র পাল। তিনি গ্রুপটির সমন্বয়কের কাজ করছেন। সুনামগঞ্জের এই কৃতি সন্তানের নেতৃত্বেই গড়ে উঠেছে অসহায় হয়ে পড়া মানুষদের সাহায্যকরা গ্রুপটি। জিনোম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের চেয়ারম্যান গাইনী এবং অবস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রফেসর আফরোজা বেগম শীলা (এমবিবিএস, এফসিপিএস, Fellow of College of Physicians & Surgeons.) বিনা ফিতেই চিকিৎসা দিচ্ছেন করোনা হেল্প লাইন গ্রুপটির মাধ্যমে। চিকিৎসক দলে আছেন ব্রাইটন হসপিটালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. ইশফাক জামান সজিব।

 

এছাড়াও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজের মেডিকেল অফিসার ডা. হাবিব উল্লাহ আবির। নিউরোলজি, কার্ডিওলজি ও মেডিসিনের এই বিশেষজ্ঞ সিসিডি ও পিজিটি করেছেন। চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন ঢাকার পিপলস হসপিটালের সিনিয়র ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ফারহানুল ইসলাম অয়ন (এমবিবিএস পিজিটি, সিএমই, ডিইউ)।

 

চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন ফরিদপুরের ডায়াবেটিস এসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করা, পদ্ম জেনারেল হসপিটাল ঢাকার চিকিৎসক ডা. লোপা রায়। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ সাদিক সাদীও আছেন করোনা হেল্প লাইন গ্রুপের চিকিৎসক দলে। মানবতাববাদী এই চিকিৎসক গ্রুপে আছেন বারডেমের চিকিৎসক ডা. তাসমিয়া হৃদয় (এমবিবিএস ডিইউ, পিজিটি)।

 

সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করা, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্যে অবস্থানরত ডা. মোঃ রেজওয়ানুলও ইসলামও অনলাইনে চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্যের বিআরআইএসএম এ চীফ টেকনোলজি অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। চিকিৎসা পরামর্শ দেন ডা. তাহমিনা হোসেইন (এমবিবিএস, ডিইউ, সিসিডি, বারডেম ও সিএমই)। তিনি বর্তমানে ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল ফরিদপুরে কর্মরত আছেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নুরুন্নাহার আফরিনও বিনা ফিতেই চিকিৎসা দিচ্ছেন গ্রুপটির মাধ্যমে। গ্রপটির মাধ্যমে টেলিমেডিসিন চিকিৎসার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেও অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ০১৭৩৭০৫৩৮১০, ০১৬৪৭০৯০১৫০ ও ০১৭১৬১৬২২৪০ নম্বরে ফোন করে যে কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের Corona Helpline গ্রুপে পোস্ট করে বা মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করেও পাওয়া যাবে এসব চিকিৎসকদের পরামর্শ।