|
প্রকাশ: মঙ্গলবার, আপডেট : ০৫ মে ২০২০ ১০:০৫ ঘণ্টা

কিট নিতে গড়িমসি করছে বিএসএমএমইউ: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

চেম্বার ডেস্ক: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট নিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করছে বলে অভিযোগে জানিয়েছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। মঙ্গলবার রাতে দেশ রূপান্তরের কাছে এ অভিযোগ করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলো করোনা রোগীর টেস্ট যথাসময়ে করতে পারছে না। অনেক রোগীর নমুনা পড়ে থাকছে। অথচ এমন সময়ে তারা কিট নিতে দীর্ঘসূত্রিতা অবলম্বন করছে।

এ বিষয়ে বিএসএমএমইউ উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট নেয়ার বিষয়ে কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তারা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি জানান, তবে এ বিষয়ে তার সর্বশেষ তথ্য জানা নেই। কারণ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে তার আলাপ হয়নি।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউ ভিসিকে চিঠি দেয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এরপর শনিবার হাসপাতালের উপাচার্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন। কমিটির প্রধান করা হয় ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান শাহিনা তাবাসসুমকে। তারা শনিবার থেকে প্রতিদিন বৈঠক করছেন। তবে কবে নাগাদ কিট নেবেন, কী প্রক্রিয়ায় কাজ করা হবে তা ঠিক করতে পারেনি।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবারও বৈঠক করেন কমিটির সদস্যরা। এতে অংশ নেন গণস্বাস্থ্যের ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার। কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

তিনি বলেন, বুধবার বৌদ্ধপূর্নিমা। বৌদ্ধপূর্নিমার পর তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। সে হিসেবে বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউ সিদ্ধান্ত নাও জানাতে পারে।

তিনি বলেন, তারা রবিবার থেকে প্রস্তুত ছিলেন বিএসএমএমইউকে করোনাভাইরাস শনাক্তে নিজেদের তৈরী কিট হস্তান্তর করার জন্য। তারা যে পরিমাণ চাইবে সে পরিমাণ সরবরাহ করা হবে। যেহেতু বিএসএমএমইউতে করোনা রোগীর টেস্ট হয় সেহেতু তারাই পারবেন এ কিটের পরীক্ষা করতে।

তিনি জানান, হাসপাতালে কিট সরবরাহ করার পর কমিটির সদস্যরা গণস্বাস্থ্যের কিট পরীক্ষা করবেন। এরপর তারা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে রিপোর্ট জমা দেবেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তারা (গণস্বাস্থ্য) একেকটি নমুনা কমপক্ষে পাঁচবার করে পরীক্ষা করে দেখেছেন। পরীক্ষায় তারা সফল হবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের কাছে এ কিট চাইছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর গণস্বাস্থ্যকে তাদের উদ্ভাবিত কিট পরীক্ষার অনুমতি দেয়। তার আগে শনিবার ২৫ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কিট হস্তান্তরের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তবে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কেউ সে দিন কিট নিতে আসেনি। পরদিন রবিবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষে তাদের কিট জমা দিতে গেলে তখনও তা গ্রহণ করেনি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর।