সর্বশেষ
|
প্রকাশ: রবিবার, আপডেট : ০৩ মে ২০২০ ১১:০৫ ঘণ্টা

গোয়াইনঘাটে কোয়ারেন্টাইনে ঢাকা ফেরত পরিবার : খাদ্য সামগ্রী দিলেন এস আই মান্নান

চেম্বার ডেস্ক: ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকের কাজ করতেন আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি। এরই সুবাদে স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের বউসহ পরিবার নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারি হিসেবে দেখা দেওয়ায় এর বিস্তার রোধে সরকারের পক্ষ থেকে সবাইকে ঘরে থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। সরকারের এমন নির্দেশনা মেনে অন্যদের মতো নিজের ঘরেই অবস্থান করেন আনোয়ার হোসেন। ফলে গৃহবন্দী অবস্থায় কর্মহীন হয়ে পড়েন তিনি।

 

 

 

এমন পরিস্থিতিতে প্রায় মাসখানেক সময় ধারদেনা করে সংসার চালিয়ে আসলেও শেষ পর্যন্ত আর তার পক্ষে কুলিয়ে উঠা সম্ভব হয়নি।  পরিশেষে কোন উপায়ান্তর না দেখে নিজের এলাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সে অনুযায়ী গত শনিবার (২ মে) পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকার আশুলিয়া থেকে আনোয়ার হোসেন তার নিজ বাড়ি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আসামপাড়া হাওর গ্রামে আসেন। বাড়িতে আসার পর সরকারের নির্দেশনা মেনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা থাকলেও সে বিষয়টি তিনি বা তার পরিবারের কেউই আমলে নেয়নি।

 

 

 

বিষয়টি জানার পর থানার ওসি আব্দুল আহাদের নির্দেশনায় এসআই আব্দুল মান্নান ওই বাড়িতে গিয়ে সরকারি নিয়ম মেনে আনোয়ার হোসেনের পরিবারকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেন।

 

 

 

এ সময় তারা এসআই আব্দুল মান্নানকে জানায় তাদের ঘরে কোন খাবার নেই। এমনকি খাবার কিনার মতো কোন টাকা পয়সাও নেই। তাই কাজ না করে ঘরে বসে থাকলে না খেয়ে মরা ছাড়া তাদের আর কোন উপায় থাকবে না।

 

 

 

বিষয়টি জানতে পেরে এসআই আব্দুল মান্নান তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে গিয়ে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে ওই পরিবারের জন্য মাছ, তরকারি, শাক-সবজি ও ইফতারের জন্য খেজুরসহ অন্তত ১৫ দিন চলার মতো নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী এবং হাজী সোহরাব আলী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সরোয়ারদীসহ স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির সহায়তায় ৫০কেজি চাউল কিনে ওই পরিবারের হাতে তুলে দেন।

 

 

 

এ ব্যাপারে এসআই আব্দুল মান্নান জানান, ওসি আব্দুল আহাদ স্যারের নির্দেশনায় ঢাকা থেকে আসা একটি পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিতে গিয়ে জানতে পারি তাদের ঘরে খাবার নেই। তখন আমার সাধ্য অনুযায়ী ওই পরিবারটিকে চাল, ডাল, মাছ তরকারিসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী কিনে দিয়েছি। প্রয়োজনে তাদেরকে পুলিশের পক্ষ থেকে আরো খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে।

 

 

 

এ বিষয়ে হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের এই দুর্যোপূর্ণ মুহুর্তে পুলিশ আমার পরিবারকে যেভাবে সাহায্য করেছে তাতে আমি তাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ। আজ যদি ওই পুলিশ অফিসার আমাদের চাল, ডাল ও মাছ তরকারিসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করে না দিতেন তাহলে, আমাদের উপোস থাকা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। আমি ও আমার পরিবারের সবাইকে উদার ও মানবিক এই পুলিশ অফিসারের জন্য সব সময় দোয়া করবো আল্লাহ যেন তাকে দীর্ঘজীবি করেন।

সৌজন্যে : সিলেট সান।