|
প্রকাশ: শনিবার, আপডেট : ০২ মে ২০২০ ০৫:০৫ ঘণ্টা

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৭ শতাধিক অবৈধ গ্রেফতার

চেম্বার ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনা মহামারীর লকডাউন চলাকালে মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসী কর্মীদের গ্রেফতার শুরু হয়েছে। এতে দেশটিতে ঘরবন্দি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। শুক্রবার দেশটির কুয়ালালামপুরস্থ সিটি ওয়ান প্লাজা, শ্রীলঙ্গার ম্যানশন ও মালয় ম্যানশনে ইমিগ্রেশন পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ৭ শতাধিক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে মিয়ানমারের অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থীও রয়েছেন। কুয়ালালামপুর থেকে নির্ভর যোগ্য সূত্র এতথ্য নিশ্চিত করেছে। করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে লকডাউন চলছে।

কুয়ালালামপুর থেকে ভেস্ট মার্কেটিং এসডিএন বিএইচ ডি’র ডিরেক্টর মো. রুহুল আমিন জানান, শুক্রবার দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ সিটি ওয়ান প্লাজাসহ কয়েকটি ভবনে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু বাংলাদেশিসহ ৭ শতাধিক অবৈধ অভিবাসী কর্মীকে গ্রেফতার করে কারাগারে নিয়ে গেছে। এতে দেশটিতে ঘরবন্দি অসহায় প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, দেশটিতে মহামারীর মধ্যে যেখানে মানুষের চলাচল ও ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে সেই মুহূর্তে এমন আটকের ঘটনা উদ্বেগের। রুহুল আমিন দেশটিতে বসবাসকারী ঘরবন্দি বাংলাদেশি কর্মীদের যাতে গ্রেফতার না করে সে জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর অনুরোধ জানান। তিনি দেশটিতে যেসব অবৈধ বাংলাদেশি কর্মী রয়েছে চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদেরকে বৈধতার দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার ওপরগুরুত্বারোপ করেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওই দেশটিতে প্রায় ২০ লাখ নিবন্ধিত বিদেশী কর্মী বসবাস করছে। এছাড়া উপযুক্ত নথিপত্র ছাড়াই আরও বিপুল সংখ্যক অবৈধ কর্মী দেশটিতে অবস্থান করছে। অনেক মালয়েশিয়ান এসব অবৈধ অভিবাসী কর্মীদের বিরুদ্ধে করোনার বিস্তার ছড়ানোর অভিযোগ তুলে বলছেন, তারা দেশের সরকার ও মানুষের জন্য বোঝা হয়ে রয়েছে।

সরকার দেশটিতে ঘরবন্দি বাংলাদেশি কর্মীদের মাঝে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ হাই কমিশনে ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্ত হাই কমিশনার শহিদুল ইসলামের একগুঁয়েমির দরুণ অধিকাংশ অসহায় কর্মীরা ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে না বলেও একাধিক ভুক্তভোগিরা জানিয়েছে।

আজ শনিবার কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের শ্রম সচিব জহিরুলের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।