|
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আপডেট : ৩০ এপ্রি ২০২০ ০৫:০৪ ঘণ্টা

ঈদের আগেই দোকান-মার্কেট খুলতে চান ব্যবসায়ীরা

চেম্বার ডেস্ক: বিনিয়োগ বাঁচাতে ঈদুল ফিতরের আগেই ক্ষুদ্র, পাইকারি ও মার্কেটসহ সারাদেশের সব দোকান খুলতে চায় ব্যবসায়ীরা। করোনার কারণে দেড় মাস তাদের ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও ঈদের বাজার ধরতে সব দিক থেকে তারা প্রস্তুত। এখন শুধু সরকারের একটি ঘোষণার অপেক্ষা করছেন। সরকারি ঘোষণা এলে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা মেনে সীমিত পরিসরে হলেও তারা ঈদের বাজারটা ধরতে চান। সে জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি আবেদনও করেছেন ব্যবসায়ীরা।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, গত মার্চ মাস থেকে সমগ্র বাংলাদেশের সব দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সরকার কর্তৃক ছুটি ঘোষণা করা হলে ব্যবসায়ীরা সে অনুযায়ী ব্যবসা বন্ধ রেখেছেন। দোকান-পাট বন্ধ থাকায় ক্ষুদ্র, খুচরা ও পাইকারি দোকানদারদের আয়-রোজগারের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এসব ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মচারীরা অর্ধাহারে অনাহারে অতিকষ্টে দিনযাপন করছেন। তারা পথে বসার উপক্রম হয়েছে। ইতোমধ্যে পহেলা বৈশাখে মার্কেট ও দোকানসমূহ বন্ধ থাকার কারণে আমাদের ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার পুঁজি নষ্ট হয়েছে।

তারা আরো জানান, করোনার জন্য প্রায় দেড় মাস আমাদের ব্যবসা বন্ধ থাকলেও পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। কারণ প্রতিবছর রমজানের দুই থেকে তিন মাস আগে থেকেই ঈদের প্রস্তুতি নিতে হয় আমাদের। এবারও সেই প্রস্তুতি অনেকটাই নেওয়া আছে। ছয় রোজা চলে যাচ্ছে। অন্যান্য বছর এ সময় উত্সবের আমেজ থাকলেও এবার অবস্থা একেবারে ভিন্ন।

 

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, রমজান ও ঈদ উপলক্ষে আমাদের ২০ থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। সাধারণত রোজা শুরুর কয়েক মাস আগেই সব ব্যবসায়ী রোজা ও ঈদের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। দেড় মাস ধরে সবধরনের দোকান পাট বন্ধ। এখন সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হচ্ছে আমাদের বেঁচে থাকা। প্রধানমন্ত্রীর ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা বড় ব্যবসায়ী ছাড়া কেউ পাবে না, তাই প্রণোদনার দিকে তাকিয়ে থাকলে আমাদের কোনো লাভ হবে না। বিশেষ করে ক্ষুদ্র পুঁজির ব্যবসায়ীদের বেঁচে থাকটাই এখন কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সব ধরনের দোকান ও মার্কেট খুলে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছি। আশা করছি সরকারের কাছ থেকে শিগগিরই এ বিষয়ে ভালো খবর আমরা পাবো।

 

এফবিসিসিআইয়ের সহ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা চাই সবসময় ব্যবসা-বাণিজ্য ঠিক থাকুক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তারা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে যেভাবে তথ্য দেবে সরকার এ ব্যাপারে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিবে। বর্তমানে দেশের যা পরিস্থিতি, এ মুহুর্তে মার্কেট খুলে দেওয়া হলেও মানুষজন তেমন যাবে না। এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হলো নিজ থেকে সচেতন হওয়া। আমরা যদি নিজ থেকে সচেতন হয় তাহলে সরকার আস্তে আস্তে সকল দোকানপাট, মার্কেট খুলে দিতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেন, দোকানপাট খুলার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে দোকানপাটসহ বিভিন্ন অর্থনীতি সেক্টরগুলো খুলার ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে।