সর্বশেষ
|
প্রকাশ: শুক্রবার, আপডেট : ২৪ এপ্রি ২০২০ ০১:০৪ ঘণ্টা

করোনাভাইরাস: বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে না সচেতনতা

শাহজাহান শাহেদ: মহামারী করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক প্রকট আকার ধারণ করেছে। অদৃশ্যমান এ মহামারী রাক্ষুসে তান্ডবে তছনছ করে দিচ্ছে বনিআদমের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। থমকে গেছে সারাবিশ্ব। রহস্যময় এ ভাইরাসের কাছে আজ অসহায় পৃথিবীর মানুষ।
কোভিড-১৯ যা করোনাভাইরাস নামে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের শিরোনামে প্রাধান্য বিস্তার করেছে। বিশ্বের উন্নত দেশ- আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেনসহ ইউরোপ কিংবা এশিয়ার বড় বড় রাষ্ট্রগুলো আজ ধরাশয়ী করোনাভাইরাসের কাছে। ইতিমধ্যে বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ লক্ষ ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮৬ হাজারের উপরে। তবে আশার বাণী হলো ৭ লক্ষ ৩০ হাজার আক্রান্তকারী সুস্থ তথা উন্নতি লাভ করেছেন।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি:
বাংলাদেশে দিনদিন করোনাভাইরাস মারাত্মক আকার ধারণ করে চলছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে ঢাকার অদূরের নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর নগরীসহ ধীরে ধীরে সারাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে।
সরকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সাধ্যমত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে সাধারণ ছুটি এবং লকডাউন ঘোষণা করেছে। কেবলমাত্র হাসপাতাল, ফার্মেসি ব্যতিত সকল শপিংমল বন্ধ করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রবাদি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য নির্ধারিত সময় বেঁধে দিয়েছে। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তথা মসজিদ মানুষের সমাগম কমাতে দেশের শীর্ষ আলেমদের সাথে মতবিনিময় করে একটা নিয়ম বেঁধে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া সবাইকে নিজ নিজ ঘরে নামাজ আদায় করতে সরকার এবং আলেমদের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিগত ১৪ মার্চ থেকে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যের বিমান ফ্লাইট বন্ধ করেছে। যানবাহন এবং নৌ চলাচলে শিথিলতা এনেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা:
বাংলাদেশে দিনদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এই পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ১৮৬ জন ছাড়িয়েছে এবং ইতিমধ্যে ১২৭ জন এই মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেছেন। আক্রান্তের সংখ্যা এখন গণনায় কিছুটা কম মনে হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন বাংলাদেশে করোনাভাইরাস বর্ণনাতীত তাণ্ডবলীলা চালাতে পারে। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে টেস্ট/পরীক্ষা খুবই কম হচ্ছে। এখানে স্বাস্থ্যখাতেরর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মাত্র ৩৬ হাজার ৯০ জন সন্দেহজনক রোগীকে পরীক্ষা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উক্তি মতে, বাংলাদেশে যত বেশি পরীক্ষা করা হবে ততই আক্রান্তকারীর সংখ্যা অতিমাত্রায় বাড়তে থাকবে।

বাড়ছে না সচেতনতা:
আমরা বাংলাদেশিরা বরাবরই এক অসচেতন জাতি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যেখানে করোনা প্রতিরোধে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আমরা মহামারী এ ভাইরাস নিয়ে যেন কোনো টেনশনই নিচ্ছি না। অনেকে আবার এটাকে নিয়ে ইয়ার্কিও করছে। যেহেতু এটা ছোঁয়াচে রোগ, সেহেতু চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের পরামর্শ মতে- একখানে জমায়েত না হওয়া, সামাজিক দূরত্ব রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সতর্ক হওয়া জরুরি হলেও আমরা তা আমলে নিচ্ছি না।
পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী মাঠে থাকা সত্ত্বেও বাজার-হাটে দোকানপাট প্রায়ই খোলা থাকছে, নিরাপত্তা পোষাক, মাস্ক ছাড়া আমরা অহরহ রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। অনেকে খেলাধুলাও করছে। আমরা নিজের অজান্তেই নিজেদেরকে অনিরাপদ করে নিচ্ছি।
এক্ষেত্রে বড় একটা সমস্যা হচ্ছে আমাদের ধর্মীয় মূর্খতাসুলভ আবেগ। যেখানে দেশের শীর্ষ আলেমরা বলছেন ঘরে নামাজ আদায় করে নিতে, সেখানে আমরা মসজিদে যেতে কেনই বা এত উদগ্রীব হচ্ছি?
ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশে মসজিদ থেকেই করোনাভাইরাস বেশিরভাগ লোকের সংক্রমিত হতে পারে। কারণ, এত টাসাটাসি করে আর কোথাও মানুষ জড়ো হয় না বা সে সুযোগ নেই। আর এ অসচেতনার জন্য কিছু আবেগী আলেমই অনেকাংশে দায়ী।

আসুন, আমরা এখনই সচেতন হই। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধৌত করি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি। বাইরে নয়, ঘরে অবস্থান করি। নিজে বাঁচি, দেশটাকে বাঁচাই।

লেখক: সাহিত্য-সংস্কৃতিকর্মী, সিলেট।