|
প্রকাশ: শনিবার, আপডেট : ১১ এপ্রি ২০২০ ০৯:০৪ ঘণ্টা

রাত ১২ টা ১ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি

চেম্বার ডেস্ক: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাসির মঞ্চ প্রস্তুত, মঞ্চের লাইট জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় ফাঁসির ট্রায়ালও করেছে, ডেপুটি জেলারা মঞ্চের পাশে ডিউটি করছেন, কারাগারের বাইরে ফোর্স বাড়ানো হয়েছে। রাত দশটার পরে মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হতে পারে। তবে রাত ১২ টা ১ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।

শনিবার (১১ এপ্রিল) কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল একটি সূত্র আগামী নিউজকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। মধ্যরাত পেরোনার পর অথাৎ ১২ টা ১ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, আব্দুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকরের জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত। ওই ফাঁসির মঞ্চে জল্লাদদের মহড়াও সম্পন্ন হয়েছে। মহড়ার সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শাজাহানসহ আরও কয়েকজন জল্লাদ।

সূত্র জানায়, আজ রাতেই দশটার পর মাজেদের ফাঁসি সম্পন্ন হতে পারে। সব প্রস্তুতি রয়েছে। প্রাথমিকভাবে রাত ১০ টা ১ মিনিটে ফাঁসির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ফাইনাল সময় রাত ১২ টা ১ মিনিট। এর আগে শুক্রবার রাতে মাজেদের পরিবারের পাঁচ সদস্য তার সঙ্গে ৩০ মিনিট সাক্ষাৎ করেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বরখাস্ত হওয়া ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ ২৫ বছর ধরে কলকাতায় আত্মগোপনে ছিলেন। গত ১৬ মার্চ তিনি ঢাকায় আসেন। এরপর সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে মিরপুর সাড়ে ১১ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ৮ এপ্রিল মৃত্যুর পরোয়ানা পড়ে শোনানোর পর সব দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান আবদুল মাজেদ। তবে প্রাণভিক্ষার আবেদনটি নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ফলে এখন পরবর্তী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হবে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে সামরিক বাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য। খুনিদের বিচার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দিতে জারি করা হয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে খুনিদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার পথ উন্মুক্ত করে। বিচার শেষে ১২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১২ জন আসামির মধ্যে পাঁচজনের দণ্ড কার্যকর করা হয়।

অন্য ছয় খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বেড়ায়। তারা হলেন— লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব.) এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন খান।

গ্রেফতার ও প্রত্যার্পণ ঠেকাতে আসামিরা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, পাকিস্তান, লিবিয়া ও আফ্রিকাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বারবার অবস্থান বদল করছেন। পরে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশও জারি করা হয়।