|
প্রকাশ: শনিবার, আপডেট : ০৪ এপ্রি ২০২০ ০১:০৪ ঘণ্টা

‘আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো’, মৃত্যুর আগে বলেছিল শিশুটি

চেম্বার ডেস্ক: সারা বিশ্বের মুসলমানদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে এক সিরীয় শিশুর ফরিয়াদ বিবেকবান মানুষকে আবেগাপ্লুত করেছে। সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তার সেই করুণ ফরিয়াদ কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে। প্রাইম নিউজ বিড়ি। তিন বছরের এক যুদ্ধাহত এক শিশু সম্প্রতি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বলেছিল, ‘আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো!’  শিশুটির রক্তমাখা ছবিটির দিকে তাকালেই বোঝা যায় সে আল্লাহর কাছে কি বলবে। একজন ব্লগার লিখেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সে নালিশ করবে! যারা তাকে মেরেছে, যারা তাকে রক্তাক্ত করেছে, যারা তাকে বুলেট ছুঁড়ে মেরেছে, তাদের বিরুদ্ধে সে আল্লাহর কাছে নালিশ করবে। এছাড়া আর কীইবা করার আছে ছোট্ট এই শিশুটির!’ তিনি লিখেছেন, ‘পৃথিবীর কারও কাছে সে অভিযোগ করেনি। কারও কাছে সে তাকে মারার বিচার চায়নি।’ শিশুটির করুণ ফরিয়াদের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের নিপীড়িত কোটি কোটি মানুষেরই মনের কথা। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই মুসলমানরা তাদের ওপর চেপে বসা জালিম শাসকদের দ্বারা নিপীড়িত হচ্ছেন। শাসকরা তাদের রক্ষশোষণ করছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য হাজার হাজার এমনকি লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করছে।  যেমন সিরিয়ায় ২০১১ সালের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু হলে সে তার বর্বর বাহিনী দিয়ে নিজ জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ওই বর্বর শাসক তার দেশের নাগরিকদের ওপর অবিরাম বিমান হামলা চালাচ্ছে। আছে রাসায়নিক হামলার অভিযোগও। কিন্তু তাতে আন্দোলন দমন হয়নি। বরং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এখন সেখানে একটি বিদ্রোহী সরকারও গঠিত হয়েছে।  সিরিয়ার সরকার ও বিদ্রোহীদের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ মারা গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। উদ্বাস্তু হয়ে শরণার্থী শিবিরে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন লাখ লাখ সিরীয় নাগরিক।

 

সিরিয়ার জালিম আসাদ সরকারের স্টাইলে বর্তমানে দানবীয় শাসন চলছে বাংলাদেশ, মিসর, নাইজেরিয়া, আফগানিস্তান, সুদানসহ বহু দেশে। এসব দেশের শাসকদের বর্বরতার শিকার হচ্ছে বহু শিশুও। সিরিয়ার ওই নাম না জানা শিশুটির ফরিয়াদ প্রতি মুহূর্তে ধ্বনিত হচ্ছে এসব দেশের কোটি কোটি মজলুম মানুষের কণ্ঠে।

 

বর্তমানে পৃথিবী জুড়ে করোনাভাইরাসের মহামারি। প্রতিবাদের পোট্রোট হয়ে যাওয়া সে শিশুর বিচারের জন্য যেনো মহান আল্লাহ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এমন প্রাণঘাতি রোগ। ধর্মপ্রাণ অনেকের ধারণা, নিস্পাপ সে শিশুর কান্না পৌঁছে গিয়েছে মহান আল্লাহর দরবারে।

 

পৃথিবীর কেউ সিরিয়ার এ রক্তখেলার বিষয়ে মাথা না ঘামালেও আল্লাহ তার বিচারে ঠিকই আসামী চিহ্নিত করেছেন। তাইতো বিশ্বের পরাক্রমশালী দেশগুলো কাঁপছে মহামারী সংক্রমণে। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল।

 

অনেকেই বলছেন, পৃথিবীর কারো কাছে সে অভিযোগ করেনি শিশুটি। কারো কাছে সে তাকে মারার বিচার চায়নি। সে জানে এবং সবাইকে জানিয়ে দিয়ে গেল- এই আদর্শহীন একচোখা বিবেকহীন বিশ্বের কাছে মুসলিমদের কিছু চাইতে নেই।

 

এ এমনই এক বিশ্ব যেখানে মানবাধিকারের ডেফিনিশনই নির্মিত হয় কিছু মানুষকে ‘অমানুষ’ বিবেচনা করে। তাইতো শিশুটি যারা তাকে মেরেছে, শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে যারা তাকে রক্তাক্ত করেছে, যারা তার আদর্শকে আদর্শ দিয়ে প্রতিহত না করে বুলেট ছুড়ে মেরেছে, তাদের বিরুদ্ধে সে আল্লাহর কাছে নালিশ করবে। এছাড়া আর কীইবা করার ছিলো ছোট্ট এই শিশুটির! কিন্তু মহান দয়ালু আল্লাহ হয়তো তার আদালতে উপযুক্ত বিচারটি রেখেছিলেন পৃথিবীবাসির জন্য। (তথ্যসূত্র: অনলাইন)।