সর্বশেষ
|
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আপডেট : ০২ এপ্রি ২০২০ ০৭:০৪ ঘণ্টা

৫ মাসেই কোম্পানীগঞ্জের ওসি সজল কুমার কানু সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিক হয়ে উঠেছেন

চেম্বার ডেস্ক: কীর্তিমানের মৃত্যু নাই! বাংলা প্রবাদ বাক্যের মতো কোম্পানীগঞ্জের আইনশৃংখলা বাহিনীর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তার নাম। থানায় যোগদানের পরপরই অনেকগুলো মাদক বিরোধী সফল অভিযান পরিচালনা করেন। সেই সাথে মাদক ব্যবসায়ীদেরকেও জেলে পাঠান। যেই কোম্পানীগঞ্জকে একসময় ভাবাহতো মাদক চোরাচালানের প্রধান রাস্তা। সেই কোম্পানীগঞ্জই বর্তমানে মাদক শূন্য।

 

 

মাদকের সাথে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমস্যা ছিল ডাকাতি। সপ্তাহে ৪/৫ টি ডাকাতি ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। সন্ধ্যার পরে সিলেট থেকে কোম্পানীগঞ্জের উদ্দেশ্যে কোন গাড়ি ছেড়ে আসত না শুধু মাত্র ডাকাতির ভয়ে। থানায় যোগদানের দেড়মাসের মাথায় পুরো ডাকাতদের নির্মূল করতে সক্ষম হোন। কোম্পানীগঞ্জের ইতিহাসে প্রথম এক সাথে ১০ জন ডাকাত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এর পর থেকে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ রাস্তা প্রায় ডাকাত শূন্য।

 

কোম্পানীগঞ্জের ইতিহাসে এই প্রথম সবকয়টি পাথর কোয়ারী একসাথে বন্ধ রয়েছে। বিগত দিনে দেখা গেছে যেই এলাকায় পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকে সেখানে ডাকাতি ও ছিনতাই বেরে যায়। এবং ছিনতাইয়ের মাধ্যমে খুনের ঘটনাও ঘটেছে। তবে বর্তমানে প্রায় দুই মাস হয়েগেল পাথর কোয়ারী বন্ধ রয়েছে। কিন্তু কোথাও কোন ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে নি।

 

আর এই সব কৃতিত্বের জন্য ফেব্রুয়ারী-২০২০ এর সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়েছেন।

 

এই ব্যাক্তিটি হচ্ছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সজল কুমার কানু। যিনি কোম্পানীগঞ্জে যোগদান করেছেন মাত্র ৫ মাস হয়েছে। এরি মধ্যে তিনি কোম্পানীগঞ্জের আইনশৃংখলা রক্ষায় আমূল-পরিবর্তন করার কারণে সর্বসাধারণের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন।

 

এরই মধ্যে তিনি ১৭টি ভারতীয় পাচার হওয়া গরু থানায় এনে প্রকাশ্যে নিলামে ৯ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেন। যা এর আগে আর কোম্পানীগঞ্জ থানায় ঘটেনি। এর পরেও আরো বেশ কয়েকটি অভিযানে তিনি গরু ধরে থানায় নিয়ে আসেন। গরু পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণে বর্তমানে কয়েকটি গরু পাচারকারী চক্র তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে যাচ্ছে।

 

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। এর প্রভাব পরেছে আমাদের বাংলাদেশও। কোম্পানীগঞ্জে যাতে করোনা ভাইরাসের প্রভাব না পরে সেজন্য তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে উপজেলার প্রবেশ মুখে বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে জীবাণুনাশক ঔষধ দিয়ে গাড়ি ধৌতকরণ, গাড়ির যাত্রীদের হ্যান্ড ওয়াশ ও হেক্সাসল দিয়ে হাত জীবাণু মুক্ত করে লেবু মিশ্রিত গরম পানি খাওয়ানো হয়। ওসির উপস্থিতিতে দিনভর এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

 

এই করোনার মধ্যে মানবতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ওসি সজল কুমার কানু। তিনি থানার পুকুরের মাছ ধরে গরীব অসহায় দিনমজুর ও ভিক্ষুক প্রায় ৫শতটি পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজ হাতে তাদেরকে দিয়ে আসেন এবং তাদের পরিবারের খোঁজ খবর নেন।

 

এইসব কাজের জন্য তিনি কোম্পানীগঞ্জের আপামর জনসাধারণের কাছে একজন আস্থাভাজন ওসি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। সেই সাথে সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি হিসাবে সজল কুমার কানুকে নিয়োগ দেওয়াটি ছিল সঠিক পদক্ষেপ। পুলিশ সুপার কোম্পানীগঞ্জের জন্য সঠিক ও সময়োপযোগী ওসি নির্বাচন করেছেন। বিষ্যতে ওসি সজল কুমার কানু তার এই ভালো কাজ অব্যাহত রাখবেন বলেও আশাবাদী কোম্পানীগঞ্জের সাধারণ মানুষ।

 

ওসি সজল কুমার কানুন বলেন, সুযোগ্য পুলিশ সুপার মহোদয়কে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি যে তিনি আমাকে কোম্পানীগঞ্জ থানা দায়িত্ব দিয়েছেন। কোম্পানীগঞ্জের সাধারণ মানুষ পুলিশকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে এবং পুলিশকে যে কোন বিষয়ে সহযোগিতা করে থাকে। আমার এত সব ভালো কাজ মূলত তাদের এই সাপোর্ট করার কারণেই সম্ভব হয়েছে। সেই সাথে আমার থানার দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমি এ কাজগুলো করতে পারেছি। সেজন্য তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাই। আমি আশা করি আপামর জনসাধারণ যে ভাবে আমাকে সব বিষয়ে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখবে।