সর্বশেষ
|
প্রকাশ: শনিবার, আপডেট : ২৫ জানু ২০২০ ০৪:০১ ঘণ্টা

কানাইঘাটে জুতার মালা পরানোর সিদ্ধান্তে অটল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, মিশ্র প্রতিক্রিয়া

চেম্বার প্রতিবেদক: ফেসবুক পোস্টে আপত্তিকর কমেন্টের শাস্তি হিসেবে জুতার মালা পরিয়ে এলাকা ঘুরানো এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের সিদ্ধান্ত অটল রেখেছে এক মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা। সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী (আকুনি) মযাহিরুল উলুম মাদ্রাসার একটি উন্মুক্ত সভায় এমন রায় ঘোষিত হয় গত ২১ জানুয়ারী। রায় কার্যকর করার নির্ধারিত তারিখ ছিল ২৫ জানুয়ারী (শনিবার)। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের রায়ে ‘সাজাপ্রাপ্ত আসামী’ উপস্থিত না হওয়ায় রায় কার্যকর করা যায়নি। শীঘ্রই এই রায় কার্যকর করা হবে জানিয়েছেন আকুনি মাদ্রাসার মুহতামিম।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কানাইঘাট উপজেলার ৮ নং ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আগতালুক গ্রামের শাহার উদ্দিন (৩২) নামের এক যুবক সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্টে কানাইঘাট দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহাদ্দিস এবং জমিয়তে উলামা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আলিমুদ্দীন দুর্লভপুরীর বিরুদ্ধে একটি কমেন্ট করেন। মাদ্রাসার মুততামিম এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, মাওলানা আলিম উদ্দিন দুর্লভপুরী একজন যুগশ্রেষ্ঠ আলেম। তাঁর বিরুদ্ধে ফেসবুকে আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। আমাদের মাদ্রাসার প্রতিবেশি সাহারের কাছ থেকে এমন কমেন্ট প্রত্যাশিত ছিল না। ফলে মাদ্রাসায় একটি সভার আয়োজন করা হয়। সেই সভায় তার বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষিত হয়। শাস্তি কার্যকরের ব্যাপারে মুহতামিম বলেন, শনিবার শাস্তি কার্যকরের নির্ধারিত তারিখ থাকলেও সাহার পলাতক অবস্থায় আছে। আমরা ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, মাদ্রাসার কমিটির সদস্য, এলাকার মুরব্বিয়ান সবাইকে নিয়ে এই বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো।

সম্প্রতি জৈন্তাপুর উপজেলার সেনগ্রামে এবং কানাইঘাটের মুকিগঞ্জ বাজারে দুইটি পৃথক তাফসীর মাহফিল ছিল। এ নিয়ে দুই উপজেলায় দু’টি পক্ষ তৈরী হলে সিলেট জেলা প্রশাসন গত ১৫ জানুয়ারী তারিখে অনুষ্ঠিত এক সভায় তাফসীর মাহফিল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সভায় এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা আলিমুদ্দীন দুর্লভপুরী। এই কারণে কানাইঘাটের যুবক সাহার দুর্লভপুরী হুজুরের বিপক্ষে ফেসবুকে স্ট্যাটাসে কড়া কমেন্ট করেন।

উল্লেখ্য, মাদ্রাসার উন্মুক্ত সভায় জুতার মালা গলায় পরিয়ে এলাকা ঘুরানো এবং আর্থিক জরিমানা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্লভপুরী হুজুরের অনুসারীরা বলছেন, হুজুরের বিরুদ্ধে ফেসবুকে যে অশালীন কমেন্ট করা হয়েছে, সেটা হুজুরের শানে বেয়াদবী। ফলে জুতার মালা গলায় পরানো ও আর্থিক জরিমানার রায় হয়েছে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি এমদাদুল্লাহ শাহিন বলেন, আদালত ছাড়া অন্য করো শাস্তি নির্ধারণ ও কার্যকরের অধিকার নেই। কেউ যদি ফেসবুকে অশালীন কিছু লিখে, সেটার আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ আছে। সেটা না করে নিজেরা শাস্তি নির্ধারণ করা মারাত্মক অপরাধ।

এ বিষয়ে কানাইঘাটের ওসি শামসুদ্দোহা বলেন, আকুনী মাদ্রাসার উন্মুক্ত সভা ও শাস্তির ব্যাপারে তারা কিছুই জানেন না। সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন বলেন, এই বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দাখিল করেনি। অভিযোগ পেলে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।