|
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আপডেট : ২৩ জানু ২০২০ ১২:০১ ঘণ্টা

বহুল প্রতীক্ষিত ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

চেম্বার ডেস্ক: বহুল প্রতীক্ষিত ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট পরিষেবা ও স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার রাজধানীর শেরবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এর আগে ১৯ জানুয়ারি ই-পাসপোর্ট উদ্বোধন উপলক্ষে ইমিগ্রেশন এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর ছবি তুলে নিয়ে যান।

ডিআইপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ সে সময় ইউএনবিকে জানান, প্রাথমিকভাবে উত্তরা, যাত্রাবাড়ী ও আগারগাঁও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে ই-পাসপোর্ট সেবা শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে ৭২টি আঞ্চলিক ও বিভাগীয় অফিস এবং ৮০টি বিদেশি মিশনে চালু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জার্মান সংস্থা ভেরিডোস জিএমবিএইচ দেশে ই-পাসপোর্ট ও ই-গেটে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) মতে, বর্তমানে ই-পাসপোর্ট ইস্যুকারী ১০০টির বেশি দেশ, বেসরকারি সংস্থা রয়েছে। বিশ্বে ৪৯০ মিলিয়ন ই-পাসপোর্টধারী আছেন।

প্রকল্পের তথ্যানুযায়ী, ‘বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট এবং স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার’ প্রকল্পটি ৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ডিআইপি পুরো প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছে। ১০ বছরে মোট ৩০ মিলিয়ন পাসপোর্ট বিতরণ করা হবে। ই-পাসপোর্ট সেবার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনের মাধ্যমে অভিবাসনের আনুষ্ঠানিকতারও পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে। জার্মানিতে দুই মিলিয়ন ই-পাসপোর্ট তৈরি করা হবে। যারা প্রথমে আবেদন করবেন, তাঁদের পাসপোর্ট জার্মানি থেকে তৈরি করা হবে। ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ৫ ও১০ বছরের জন্য।

২০১৮ সালের ১৯ জুলাই ডিআইপি এবং জার্মানি ভেরিডোস জিএমবিএইচ সংস্থা ইলেকট্রনিক পাসপোর্টের জন্য একটি চুক্তি সাক্ষর করে।

ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট পেতে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) মতো নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে। যদিও এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র অনলাইনে অথবা পিডিএফ ফরমেটে ডাউনলোড করে তা পূরণ করতে হবে। এতে কোনো ছবি এবং কোনো ধরনের কাগজপত্র সত্যায়নের প্রয়োজন নেই। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদসহ বাবা-মায়ের এনআইডির কপি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনপত্র গ্রহণের সময় হাতের ১০ আঙুলের ছাপ, ছবি ও চোখের আইরিশ ফিচার নেয়া হবে।

আবেদন করার বিস্তারিত নিয়ম অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে। ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হবে। তবে অতি জরুরি ক্ষেত্রে ই-পাসপোর্ট করার জন্য প্রি-পুলিশ ভেরিফিকেশন নিজ উদ্যোগে করে নিয়ে যেতে হবে।

৫ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের জন্য সাধারণ (১৫ দিন) ফি সাড়ে ৩ হাজার টাকা, জরুরি (৭ দিন) সাড়ে ৫ হাজার টাকা এবং অতি জরুরি (২ দিন) সাড়ে ৭ হাজার টাকা। ১০ বছরের জন্য সাধারণ (১৫ দিন) ফি ৫ হাজার টাকা, জরুরি (৭ দিন) ৭ হাজার টাকা এবং অতি জরুরি (২ দিন) ৯ হাজার টাকা।

পাঁচ বছর মেয়াদি ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের সাধারণ (১৫ দিন) ফি সাড়ে ৫ হাজার টাকা, জরুরি (৭ দিন) সাড়ে ৭ হাজার টাকা এবং অতি জরুরি (২ দিন) সাড়ে ১০ হাজার টাকা। ১০ বছরের জন্য সাধারণ ফি (১৫ দিন) ৭ হাজার টাকা, জরুরি (৭ দিন) ৯ হাজার টাকা এবং অতি জরুরি (২ দিন) ১২ হাজার টাকা। সব ফি’র সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ হবে।

ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। যেসব অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তাদের পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি এমআরপিও চালু থাকবে। তবে নতুন করে কাউকে এমআরপি দেয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে সব এমআরপি তুলে নেয়া হবে।