|
প্রকাশ: শুক্রবার, আপডেট : ১৭ জানু ২০২০ ১০:০১ ঘণ্টা

সময় এখন স্বপ্ন হবে বাস্তবায়ন -গ্রাম হবে শহরায়নঃ শওকত আখঞ্জী

চেম্বার ডেস্ক: অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ গড়বে সোনার বাংলা পরিকল্পনায় উন্নত নগরায়ন। শহর থেকে গ্রাম। গ্রাম থেকে শহর। বাংলাদেশ গ্রাম প্রধান দেশ এই দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো গ্রামে বসবাস করে।

রক্ত দিয়ে কেনা লাল সবুজের বাংলায় বসে গ্রামীণ এলাকার  মানুষজন স্বপ্ন  দেখে গ্রাম হবে একদিন শহর  উন্নত জীবন যাপনে সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে গ্রাম-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে সব জায়গা সমান।

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে ইতিমধ্যে স্বীকৃতি লাভ করেছে। সামাজিক  এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নীত সূচকের মাত্রা দ্রুত গতিতে অগ্রসমান। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম!ধর্ম নিরপেক্ষ! শান্তির উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম!শান্তি শৃঙ্খলা ধর্ম নিরপেক্ষতার দিক থেকে বাংলাদেশ বহিবিশ্বতে অন্যরকমভাবে স্বীকৃতি লাভ করতে সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছে ।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিক থেকে প্রবৃদ্ধির হার    সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে প্রণিধান যোগ্য!

স্বাধীনতা পরবর্তীতে বর্তমানে বাংলাদেশে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে!অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

হাওর অঞ্চল বেষ্টিত কৃষি প্রধান দেশ এই বাংলাদেশ এর মধ্যে অধিকাংশ উপজেলায় হাওর অঞ্চল বেষ্টিত! বাংলাদেশের জনসংখ্যায় দিক থেকে যদি মুল্যায়ন করি?তাহলে হাওর অঞ্চলের  প্রাধান্যতা এমনিতে সমিক্ষায় চলে আসে।দেশের মোট জনসংখ্যার ৭ ভাগের ১ ভাগ হাওর অঞ্চলের জনগোষ্ঠী রয়েছে  প্রায় ২ কোটি মতো। হাওর অঞ্চলের কৃষি ফসলাদি  এবং কৃষকের উৎপাদিত ধান দিয়ে এই দেশের  মোট জনসংখ্যার খাদ্যের মোট চাহিদার ১২ মাসের মধ্যে ১ মাস খাদ্যের যোগান দিয়ে থাকে।গ্রাম প্রধান বাংলাদেশ এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় রয়েছে হাওর- মৎস ও ধান ! আন্তর্জাতিক ওয়ার্ল্ড হেরিসাইড টাংগুয়ার হাওর আর এই হাওরের স্রোতরাশি দেখলে মনে হয় এ যেন এক বিশাল সাগর যার সীমানা দু-চুখের মধ্যে ধারণা থাকেনা।

 

গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গ্রাম হবে শহর তা লক্ষ্যে বাস্তবায়ন নিয়ে হাওর অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের কথা ভেবে এই অঞ্চলবাসীর উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ এবং শিক্ষার ব্যবস্থার বিস্তৃতি লক্ষে ইতিমধ্যে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন হয়েছে! সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ এবং সূদুরপ্রসারী চিন্তাভাবনার জন্য সরকার প্রধান প্রশংসার দাবিদার।

“অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ”এই দেশ কৃষি,রেমিট্যান্স,চা শিল্প রপ্তানি আয়,তথ্যপ্রযুক্তি, প্রভৃতি করে জাতীয় আয় বাড়াচ্ছে এই সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে প্রকৃত সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই অবশ্য আরো বেশি গুরুত্ব দিতে হবে!অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো গ্রামকে শহরে রুপান্তরিত করা,গ্রামীণ অর্থনীতিকে যদি  শুধু কৃষিতে নির্ভর করি তাহলে গ্রামকে শহরায়ন করা সম্ভবপর নয়।

এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে শহর এবং গ্রাম একই গতিতে সুযোগ সুবিধা প্রদানে লক্ষ্যে সমান তালে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

এখনো বিভিন্ন সুযোগ সুবিধায় গ্রাম শহর থেকে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।

তাই গ্রামের মানুষের উন্নয়নে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে  তার  লক্ষ্যে নিয়ে রাস্তাঘাট প্রযুক্তিগত সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি লক্ষ্যে সোনার বাংলা গড়ার জন্য এক যুগে কাজ করে যেতে হবে।

গ্রামীণ এলাকায় বসবাসের পরিবেশ সময় উপযোগী করতে হবে!মানুষের হাতের নাগালে উন্নত সুযোগ-সুবিধা পৌছে দিতে হবে।গ্রামীণ অর্থনীতি ও গ্রামকে শহরায়ন করার পরিকল্পনায়

তার চিন্তা ভাবনা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গ্রামের মানুষকে উন্নত সেবা প্রাধানের লক্ষ্যে নিয়ে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা রয়েছে  তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে রয়েছে একটি করে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার!ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তি লক্ষ্যে রয়েছে গ্রাম আদালত

উন্নত হচ্ছে রাস্তাঘাট।

এই দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে,

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ এ দেশের মোট জনসংখ্যার খাদ্য উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করে

বিশ্বের মানচিত্রতে  উৎপাদনের দিক থেকে এই দেশ এখন বিশ্বে তৃতীয় ও মৎস্য  উৎপাদনে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

উন্নয়নে দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে  দেখা যায় যে – গ্রাম মানুষেরা বিভিন্ন দিক থেকে শহরায়ন মতো অগ্রসরমান গ্রামীণ মানুষের মধ্যে আমরা পারবো! প্রকৃত সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সেই আশা সৃষ্টি হয়েছে।

একজন মানুষ তখনি আশাবাদী হয়! যখন তাদের চোখের সামনে উন্নতি-অগ্রগতির ও অপার সম্ভাবনার স্বপ্ন  ভেসে উঠে।

গ্রামকে শহরে রুপান্তরিত করতে হলে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে।

গ্রামের মানুষের কাছে  সুযোগ -সুবিধা প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা হাতের নাগালে পৌছে দিতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করার লক্ষ্যে দক্ষ্য জনগোষ্ঠী গড়ার প্রতিশ্রুতিশীল হয়ে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে গ্রামকে শহরে রুপান্তরিত করতে হবে।দক্ষ্য জনগোষ্ঠী গড়ার লক্ষ্যে নিয়ে শিক্ষা,স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষণ ইত্যাদি ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করতে হবে।

শিক্ষার ক্ষেত্রে গ্রামীণ এলাকার স্কুল গুলাতে ছেলেমেয়ে রা শতকরা ৯৯ ভাগ স্কুলে ভর্তি হয়।অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করার পুর্বেই স্কুল থেকে শিশুরা ঝরে পড়ে। ঝরেপড়া রোধে শিশুদের কথা চিন্তা করে সরকার উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো অধীনে গ্রামে-গঞ্জে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যবস্থা চালু করেছে।অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় এখন উন্নতি হয়েছে গ্রামের স্কুল গুলাতে এখন পর্যাপ্ত পরিমাণ  শিক্ষা উপকরণ উন্নত ডিজিটাল  ক্লাসরুম দক্ষ্য শিক্ষক রয়েছে! প্রাইমারী স্কুল থেকে কলেজ পর্যায় পর্যন্ত রয়েছে প্রতিস্টানের  ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম!

বছরের শুরুতে এখন প্রত্যেক শিক্ষার্থী বিনামূল্য নতুন বই পাচ্ছে।

গ্রামকে শহরে রুপান্তরিত করতে হলে গ্রামীণ এলাকায়  মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যতম আরেকটি সেবা হচ্ছে  স্বাস্থ্যসেবা ভালো থাকতে হলে সুস্বাস্থ্য থাকতে হবে!

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রত্যেক ইউনিয়নে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলায় উন্নত সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে সেই ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে!সরকারি স্বাস্থ্যসেবা  সমৃদ্ধ এবং তা সম্প্রসাড়িত করতে হবে।

গ্রামের মানুষকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ শিল্পখাতে দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন,তা লক্ষ্যে নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও মাঠ পর্যায়ে সরকারি অথবা বেসরকারিভাবে  প্রশিক্ষণ আয়োজনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শহরের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামে মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ ও সুযোগ সুবিধা আরো গতিশীল করে  ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাখতে হবে এবং দুর্নীতি রুখতে হবে।

দেশের প্রাণ যুবসমাজ এই যুবসমাজকে দক্ষ্য জনগোষ্ঠী করে দেশের  অগ্রগতিতে সম্পৃক্ত  করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। শহরের মতো গ্রামের মানুষের কাছে শিক্ষা,চিকিৎসা,  ব্যাংকিং সুবিধা গুলার সেবা পৌছে দিতে হবে।

গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নের লক্ষ্যে গ্রামের রাস্তাঘাট শহরের সাথে গ্রামকে সংযুক্ত করতে হাওর এলাকার  ব্রীজ গুলা করে শহরের সাথে যোগাযোগব্যবস্থা সংযুক্ত করতে হবে।

একটি দেশের উন্নতির প্রাণ যুবসমাজ তাই যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদককে না বলতে হবে।

এক্ষেত্রে সচেতনতা দরকার!মনুষ্যেতর উন্নতি করতে হবে! মানবিক  মূল্যবোধ রক্ষা করা শিক্ষা অর্জন করতে হবে! বাল্যবিয়ে রোধ করতে হবে! মেয়েরা যাতে করে  উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে!”একজন শিক্ষিত মা একটা শিক্ষিত জাতী উপহার দিতে পারে”বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে শতকরা  প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ মানুষ এখনো  গ্রামে বসবাস করে। গ্রামকে শহরের সঙ্গে সুযোগ সুবিধা উন্নয়নের লক্ষ্যে একই সুরে গাঁথতে হবে।

সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশকে প্রকৃত অর্থে সোনার  বাংলা গড়তে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে “অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ”তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন কর‍তে হবে।

লেখকঃশওকত আখঞ্জী

উন্নয়নকর্মী ও কলামিস্ট