|
প্রকাশ: বুধবার, আপডেট : ১৫ জানু ২০২০ ১২:০১ ঘণ্টা

ফুলতলী(রঃ) অাছেন আমাদের মননে,ধ্যানে,চেতনায়,আদর্শে : ফকির ইলিয়াস

ফকির ইলিয়াস:

১৯৮৫  এর এক সন্ধ্যা। আমরা ঢাকা যাবো।

আমার সাথে আরেকজন সফরসঙ্গী। সিলেট

রেলস্টেশনে ট্রেনে উঠে সিটে বসেছি।

হঠাৎ দেখি একদল মাদ্রাসা ছাত্র এবং কয়েকজন

মাওলানা আমাদের কম্পার্টমেন্টে উঠেছেন।

বুঝতে পারি  তাঁরা সবাই একসাথে কোথাও

যাচ্ছেন। আমি ঘাড় ফিরিয়েই দেখি ছাহেব

ক্বিবলা ফুলতলী (রঃ) আমার সামনেই দাঁড়ানো।

বংশ পরম্পরায় আমরা সিলসিকায়ে ফুলতলীর

আশেকান।

আমি দেখেই বসা থেকে খুব দ্রুত দাঁড়িয়ে যাই।

সালাম দিয়ে খুব বিনীতভাবে হাত বাড়িয়ে দিই।

তিনি সালামের জবাব দিয়ে আমাকে ইশারায়

বসতে বলেন।

আমি বলি- ‘দয়া করে বসুন’

তিনি বলেন- ‘কই যাইতায়’

আমি বলি – ঢাকা।

তিনি বলেন- ‘আমরা মোগলাবাজার একটা

ওয়াজ মাহফিলে যাইয়ার। তোমরা ঢাকাত

যাইতায়। অনেক দূরে। তুমি-তাইন বইয়া যাও’।

আমি বলি- ‘ জ্বি না, আপনি বসেন’

তিনি বলেন- ‘আমার লগে অত মেহমান।তারারে

থইয়া আমি তো বইতাম পারি না’।

পরে সাথের প্রায় সবাই অনুরোধ করেন।

না,  তিনি বসেন নাই। দাঁড়িয়েই যান মোগলাবাজার

স্টেশন পর্যন্ত। আমরাও সিট খালি রেখে যাই

উনার সাথে।

মনে পড়ছে সেই কালো দিনটির কথা।

৫ মার্চ ১৯৮০ মঙ্গলবার।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের সৈয়দপুরের

একটি মাঠে কতিপয় বাতিলদের হাতে

আক্রান্ত হন ছাহেব ক্বিবলাহ। এটা সমকালীন

ইসলাম প্রচারের ইতিহাসে একটি জঘন্যতম

ঘটনা।

তিনি সিলেটে হাসপাতালে। উত্তাল হয়ে

উঠেছে সিলেট বিভাগ। প্রতিবাদ বাংলাদেশ,

উপমহাদেশ ছাড়িয়ে বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত

থেকে।

আমি তখন একটি মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র।

ছাহেবকে দেখার জন্য হাসপাতালে হাজার

হাজার মানুষ।

অনেকক্ষণ  অপেক্ষা করে তাঁর আক্রান্ত বেডের

পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমার সাথে প্রায়

১০০ জন ছাত্রকর্মী।

সবাই এই ঘটনার প্রতিশোধ চান!

তিনি আমাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন।

আস্তে আস্তে ইশারায় বললেন, কিচ্ছু করার

দরকার নাই। ওরা না বুঝে এসব করেছে।

ওদের ক্ষমা করে দিতে হবে।

কী হতে পারতো সেদিন!  লাখো মানুষের দখলে

ছিল সেদিন সিলেট শহর।

না, তিনি বলেছিলেন কেউ যেন ওই বাতিলদের

প্রতি একটি  ফুলের ঢিলও না ছোঁড়ে!

এমন মহান মানুষ ছিলেন তিনি।

শাহে বদরপুরী যে আলো জ্বালিয়ে গিয়েছিলেন,

এর হক্কানী ধারক ছিলেন মাওলানা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী(রঃ)।

তিনি বাতিলদের বিরুদ্ধে ছিলেন অত্যন্ত সোচ্চার

কন্ঠ। তাঁর সাথে স্মৃতি, তাঁর বয়ান, বিদেশে

তাঁর মাহফিলে আলাপ আলোচনা নিয়ে

দীর্ঘ লেখা লিখবো ইনশাআল্লাহ, পরবর্তী সময়ে।

আজ, এই সময়ে আমরা দেখছি, অনেকেই

তাফসিরুল ক্বোরআনের নামে মওদুদিবাদী

ফেরকা প্রচারে ব্যস্ত। এরা ওলী আউলিয়া,

নবী রাসুলদের বিরুদ্ধেও না না হীনকথা

প্রচার করছে।

মুরশিদে বরহক্ব, ক্বিদওয়াতুস সালেকিন,

ছাহেব ক্বিবলাহ(রঃ)’র চেতনায় প্রজন্মকে

দাঁড়াতে হবে।

১৫ জানুয়ারি এই মহান মানুষের ইন্তেকাল

দিবস। দেখতে দেখতে একযুগ সময় চলে

গেছে, তিনি লোকান্তরিত হয়েছেন।

আমি মানি ও বিশ্বাস করি- ‘আল ওয়ালিউল

লা মাওত’

‘ওলীদের মৃত্যু নেই’।

তিনি আছেন।আমাদের মননে,ধ্যানে,চেতনায়,

আদর্শে।

আমি তাঁর রুহের ফায়েজ কামনা করছি।

√ নিউইয়র্ক / ১৪ জানুয়ারি ২০২০