|

হাওর ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ নিয়ে কিছু কথা :শওকত আখঞ্জী

চেম্বার ডেস্ক : 

হাওর অঞ্চল বেষ্টিত কৃষি প্রধান দেশ এই বাংলাদেশ এর মধ্যে ৭টি জেলার ৩৪টি উপজেলায় হাওর অঞ্চল বেষ্টিত! বাংলাদেশের জনসংখ্যায় দিক থেকে যদি মুল্যায়ন করি?তাহলে হাওর অঞ্চলের  প্রাধান্যতা এমনিতে সমিক্ষায় চলে আসে।দেশের মোট জনসংখ্যার ৭ ভাগের ১ ভাগ হাওর অঞ্চলের জনগোষ্ঠী রয়েছে  প্রায় ২ কোটি মতো।

আমরা যদি জাতীয়ভাবে সমবৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধি এবং উন্নতির কথাবলি তাহলে হাওর অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নতি রেখে জাতীয়  উন্নয়ন সম্ভবপর নয়।

কারণ হাওর অঞ্চলের কৃষি ফসলাদি  এবং কৃষকের উৎপাদিত ধান দিয়ে এই দেশের  মোট জনসংখ্যার খাদ্যের মোট চাহিদার ১২ মাসের মধ্যে ১ মাস খাদ্যের যোগান দিয়ে থাকে মূলত   হাওর অঞ্চলের কৃষক জনগোষ্ঠীর বোর ফসল

তাই হাওর বাসীর  কথা ভাবতে হবে জাতীয় উন্নতির সার্থে।

৭টি জেলার মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা অন্যতম এই জেলার অন্তর্গত বিভিন্ন  হাওরে চাষ করা বোরোধান । কৃষক ফসল ঘোলায় তুলার পুর্বে ত্রুটি যুক্ত বেড়িবাঁধ আর পাহাড়ি ঢলের কারণে মাঝেমধ্যে অকাল বন্যায় তলিয়ে যায় সোনালী  ফসল! তার সাথে নষ্ট হয়ে যায় একজন কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম এবং তার বুনা সোনালী স্বপ্ন। সুনামগঞ্জ অঞ্চলের হাওরের সমস্যা এটি একটি জাতীয় সমস্যা  এ সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ভাবে অঞ্চল ভিত্তিক গতানুগতিক পদক্ষেপ নিয়ে আন্তরিকতার সাথে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি  সংশ্লিষ্ট  সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে একযুগে  দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে আন্তরিক ভাবে। হাওর বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং হাওর উন্নয়ন কাজের সাথে প্রকৃত কৃষকদের সংশ্লিষ্ট করতে হবে।প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের মধ্যে রাখতে হবে  হাওর পারের স্থানিয় বাসিন্দাদের।

তাদের কাজের ধারা সঠিকতর ভাবে হচ্ছে কি?না!তার জন্য সরকারের উচ্চপদস্থ লোকজনের পাশাপাশি  হাওর পাড়ের বাসিন্দাদের অন্তুর্ভুক্ত করে সমন্নয়ক  মনিটরিং সেল গঠন  করে সার্বিকভাবে সহযোগীতা করে কাজের মুল্যায়ন করতে হবে।মনিটরিং সেল প্রয়োজন সাপেক্ষ যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে সময়মতো যোগাযোগ রেখে অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে একযোগে নিরলস ভাবে কাজ করতে হবে। হাওর অঞ্চলের হাওর ডুবে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো যথাসময়ে হাওর বেড়ীবাঁধ না হওয়া সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি কাজের সচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া । তাই এখনই উপযুক্ত সময় যথাযথ সময়ের মধ্যে হাওরের বেড়িবাঁধ গুলা অতিদ্রুততার সহিত সম্পুর্ন করা তার জন্য প্রয়োজন হাওর বেড়িবাঁধ নির্মাণ সঠিক নিয়ম  অনুস্মরণ করে তা বাস্তবায়ন করা।

হাওরের ফসল অকালবন্যায় ডুবে যাওয়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হলো নদীগুলো পলিমাটিতে  আর পাহাড়ি ঢলের বালুতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন! এ প্রতিবন্ধকতার কারণে বোরো জমি চাষাবাদ করার পর  সোনালী ফসল ঘরে তুলা এখন স্বপ্নের  মতো হয়ে গেছে!কোন কোন বছর বোরো  ফসল কৃষকের ঘোলায় উঠে আবার কোন কোন বছর অকাল বন্যায় ফসল নষ্ট হয়ে যায়। অতি বৃষ্টি হলে খাল-বিল ও নদী-নালা এবং হাওরের মধ্যে যে সকল ডোবা রয়েছে তা পানিতে একাকার হয়ে যায়!আর পাহাড়ি ঢল আসলে তো বলার প্রয়াসী থাকেনা অকাল বন্যার ফলে বোরো জমি গুলা তলিয়ে যায় সাথে সাথে।

অথচ এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগ যথাসময় থাকলেও কিছুকিছু এলাকায় যথাসময়  প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেই। বাংলাদেশের মধ্যে হাওর- মৎস ও ধান প্রধান এই সুনামগঞ্জ জেলা!সুনামগঞ্জ জেলা থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার ধান আর মৎস্য চাষ করার ফলে সরকারি রাজস্ব তহবিলে যেমন আয় যোগ হচ্ছে তেমন পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানী করা হয় তার ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন হয়। সুনামগঞ্জ অঞ্চলের হাওর সমস্যা নতুন নয়!নয় কোন আকস্মিক দুর্ঘটনা! এ সমস্য সকলেরই জানা। হাওর অঞ্চলের প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে অকাল বন্যা হয়! লাখো মানুষ দুর্দশার সম্মুখীন হয়ে বিনষ্ট হয় হাজার কোটি টাকার কৃষি ফসল! বন্যাবাহিত এলাকাজুড়ে সাগরের ঢেউ-এর মতো উত্তাল তরঙ্গে জেগে উঠে! আন্তর্জাতিক ওয়ার্ল্ড হেরিসাইড টাংগুয়ার হাওর আর এই হাওরের স্রোতরাশি দেখলে মনে হয় এ যেন এক বিশাল সাগর যার সীমানা দু-চুখের মধ্যে ধারণা থাকেনা।

 

হাওর অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের কথা ভেবে এই অঞ্চলবাসীর উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ এবং শিক্ষার ব্যবস্থার বিস্তৃতি লক্ষে ইতিমধ্যে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন হয়েছে। সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ এবং সূদরপ্রসারী চিন্তাভাবনার জন্য সরকার প্রধান প্রশংসার দাবিদার।

শিক্ষার উন্নয়নে যেমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ঠিক তেমনি গুরুত্ব তার সহিত হাওর অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে সুদুর প্রসারী স্থায়ী পরিকল্পনার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে প্রবাহিত প্রতিটি নদী অতিদ্রুততার সহিত খনন করা লক্ষ্যে  প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে অঞ্চলভেদে প্রাধান্যতা দিয়ে প্রয়োজনীয় স্থানে স্থানে টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ,খালবার্ড-সুইচগেইড তৈরি করে দিয়ে হাওরের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা,

যাতে প্রয়োজনীয় সময়ে পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুইচ গেইটের দ্বার উঠানো-নামানো যায়।

নদী খনন করে নাব্যতা বৃদ্ধি করে পানির গতি প্রবাহকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত করতে হবে যাতে করে ফসল কাটার সময়ে পানি তীর বেয়ে বেড়িবাঁধের উপরে উঠতে না পারে। হাওর এলাকার অবস্থা সার্বিকভাবে জানেন প্রশাসন ও

জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য  সবাই,তাই সময়ের কাজ যথাযথ ভাবে হচ্ছে কি? না! তার দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য বিনীত অনুরোধ রাখছি।

প্রতিবছর এর স্থায়ী সমাধানে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ ও ব্যয় করা হচ্ছে!তবু কেন সমস্যার সমাধান হয়না! প্রশ্ন রাখলাম সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তি বর্গের বিবেকের কাছে।

সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের কৃষক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়-বরাদ্দকৃত টাকা সময়মত ব্যয় করা হয় না। তাই সমস্যা সমাধানে  প্রয়োজনীয় উদ্যোগ    গ্রহণপুর্বক সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে  আন্তরিক সৎ উদার ও যথাযথ সময়ে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন এক্ষেত্রে দেশ-প্রেম প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। ক্ষুদ্র ব্যক্তির স্বার্থকে যেন বড় করে দেখা না হয়!রক্ষক যেন এখানে ভক্ষকের ভূমিকায় অবর্তীণ না হয় ।

সুনামগঞ্জের অঞ্চলের উন্নয়নে লক্ষ লক্ষ লোকের কল্যাণ তথা জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে প্রযুক্তির দিক দিয়ে উন্নত যে দেশ সেই দেশ সমূহের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা গ্রহণ করা যেতে পারে।তাই সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতার সঙ্গে সততা, সদিচ্ছা থাকতে হবে।এই দেশ যেন প্রকৃত সোনারবাংলা গঠন হয় তার লক্ষ্যে নিয়ে যথাযথ উদ্যোগের পাশাপাশি কাজ করতে হবে সততার সাথে । দেশপ্রেম থাকলে এমন কোন সমস্যা নেই যার সমাধান সম্ভব নয়!!

তাই হাওর পাড়ের বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশা রাখছি  যযথাযথ কর্তৃপক্ষ যেন আমাদের এই হাওর অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে অতিদ্রুত সময়ে টেকসই  বেড়িবাঁধ  নির্মাণকল্পে তা সঠিক  বাস্তবায়নের জন্য অতিসত্বর কার্যক্রম শুরু করেন।

লেখকঃউন্নয়নকর্মী ও কলামিস্ট।