|
প্রকাশ: মঙ্গলবার, আপডেট : ২৪ ডিসে ২০১৯ ১২:১২ ঘণ্টা

দেশের প্রতিটি জেলায় আমরা বইমেলা করে থাকি: নাসের চৌধুরী

এম. এ ওয়াহিদ চৌধুরীঃ সিলেট বিভাগীয় বইমেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুজিবর্ষের প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেছেন দেশের প্রতিটি জেলায় আমরা বইমেলা করে থাকি, বাঙ্গালির ইতিহাস জানতে হলে বই পড়তে হবে

বাঙালির মুক্তির মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির শৃঙ্খলামুক্তি ও মানবকল্যাণই ছিল যাঁর ব্রত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস আর বঙ্গবন্ধু নামটি অবিচ্ছেদ্য। বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার স্বর্গসুখের ভাবনাটি স্থান পেয়েছিল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনায়, যাঁর লড়াই ও সংগ্রামের ফলে বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। বাঙ্গালি জাতি স্বত্ত্বার ধারক ও বাহক হিসেবে বঙ্গবন্ধু আমাদের কাছে চিরস্মরণীয় জাতি হিসেবে সত্যের মূল ভিত্তি তিনিই রচনা করেছেন। যার জন্ম না হলে বাংলাদশে স্বাধীন হতো না। তিনি হলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবিুর রহমান। গতকাল সিলেট বিভাগীয় বইমেলা-২০১৯ এর উদ্বোধনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্ত্যেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন জাতীয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এসব কথা বলেন।

 

সিলেট জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার বিকেল ৩ টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত সিলেট বইমেলার উদ্বোধনী ও আলোচনা সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরন দাস গুপ্তের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্ত্যেবে ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী আরো বলেন, মুজিব বর্ষ’ উদযাপন নতুন প্রজন্মকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আদর্শকে সমুন্নত রাখতে অনুপ্রাণিত করবে। দেশপ্রেমে উজ্জ্বীবিত হয়ে দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করতে ভবিষ্যৎ তরুণদেরকে উৎসাহিত করবে।

 

প্রধান অতিথি বলেন, জ্ঞানকে প্রদীপের সঙ্গে তুলনা করা হয়। আর সেই জ্ঞানের রহস্যময় ভাণ্ডার হলো বই। বইকে মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু বলা হয়। কারণ বই আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করে। যত বই পড়ব ততই আমাদের জ্ঞান বাড়বে।

 

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী আনন্দ-উৎসবের সঙ্গে পালন করবে জাতি। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্ম মাস মার্চ থেকে শুরু হবে এ উৎসব যা ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত চলবে। সুবর্ণজয়ন্তীতে বিশ্বের মানবতাবাদী নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। ১৯৭১ সালে     বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। সে হিসেবে ২০২১ সালে সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে জাতি। “জাতির পিতা রক্ত দিয়ে ঋণ শোধ করে গেছেন। তার রক্তের ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে।” জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করার পথেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।”

 

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব খোরশেদ আলম, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ঢাকার পরিচালক মিনার মনসুর ও সিলেটের পুলিশ সুপার মোঃ ফরিদ উদ্দিন (বিপিএম)।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য দেন, সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবজিৎ সিনহা, সিলেট বিভাগীয় সমাজসেবা পরিচালক সন্দীপ কুমার সিংহ, সিলেট জেলার উপ-পরিচালক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আসলাম উদ্দিন , অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শারমিন সুলতানা, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিষ্ট আফতাব চৌধুরী, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও রাজনীতিবিদ জামান চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ, সিলেট জেলা প্রশাসনের এনডিসি মো. এরশাদ মিয়া, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার শাহিনা আক্তার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. হেলাল চৌধুরী, হিরতিজা হাসান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে ছালিক রোমাইয়্যা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন, হাছিবুর রহমান, ফজলে ওয়াহিদ,কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মিয়া, সিলেট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল ও মহানগর সভাপতি ভবতোষ রায় বর্মন। সিনিয়র সাংবাদিক, আল আজাদ, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি মুহিত চৌধুরী, সহ সভাপতি গুলজার আহমদ হেলাল।

 

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এবং সিলেট জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় এ বইমেলা চলবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মেলা প্রতিদিন বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে চলবে রাত ৮ টা পর্যন্ত। এই বইমেলায় ঢাকা থেকে আগত ২৮টি ও স্থানীয় ১৬টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান তাদের স্টলে দুর্লভ ও গুরুত্বপূর্ণ বই প্রদর্শন করবে।