|

নারী স্বাধীনতা ও কিছু বাস্তবতাঃআবু বকর সিদ্দিক

আবু বকর সিদ্দিক:

নারী স্বাধীনতা বলতে আধুনিক সোসাইটি কি বুঝাইতে চায় তা আমার বোধগম্য হয় না। নারী কি তবে আজীবন পরাধীন ছিলো। হঠাৎ করে তারা স্বাধীন হতে চাইছে!ব্যাপারটা কি ঠিক এইরকম নাকি অন্যকিছু। যদি স্বাধীন হতে চায় তবে তারা কোন রকমের স্বাধীনতা চায়। কি স্বাধীনতা দিলে আধতে তারা খুশী হবে।

 

এখন আমি যদি ওয়েস্টার্ন কালচারের সাথে তুলনা করি তাহলে বলা যায় আমাদের নারীরা অনেক ভালো আছে এবং শান্তিতে আছে। বলতে দ্বিধা নাই আমাদের নারীরা সম্মানের সহিত আছেন। এখন আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন এসব কি বললা সিদ্দিক! নারীরা সম্মানে আছে! তুমি কি দেখো না কত রেইপ হচ্ছে আশেপাশে। হ্যা ভাই দেখি এবং এগুলোকে ঘৃণা করি। যারা রেইপ করে সবাই অবশ্যই তাদেরকে ঘৃণা করে।

 

আসল পয়েন্টে আসি। রেইপ সব দেশেই হয় ইউরোপীয় কোন কোন দেশে রেইপের হার বড়ই ভয়াবক। এইসব পরিসংখ্যান আপনার সামনে তুলে ধরলে আপনিই হতবাক হয়ে যাবেন৷ সমাজ কিংবা দেশ বা মহাদেশ কোন সোসাইটিতে এটাকে ভালো ভাবে দেখা হয় না। অবশ্যই ঘৃণার চোখেই দেখা হয়।মানুষকে সত্যিকার অর্থেই যদি মানুষ না বানানো যায় তাহলে এইসব অপকর্ম থেকে তাদেরকে বিরত রাখা কঠিন। ধর্মীয় বিধিনিষেধ বা প্রতিটি সমাজ ব্যবস্থার শক্ত আইন কানুন এইসব বন্ধ করার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখতে পারে।

 

আমার গুরুত্বপূর্ণ যে যে কথাটা আপনি একটু ফোকাস করুন। ইউরোপ বা আমেরিকান নারীরা তো স্বাধীন! হ্যা স্বাধীন। তাহলে সেখানে ফ্যামিলি বন্ডিং নাই কেন৷ফ্যামিলি বন্ডিং না থাকার একটাই কারণ অবাধ স্বাধীনতা। স্বাধীনতা জিনিসটা ভালো। অবশ্যই ভালো কিন্তু অবাধ স্বাধীনতা জিনিসটা খারাপ। খুব খারাপ। ইউরোপীয় কালচারে এখন তারা অবাধ স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও তাদের ফ্যামিলি ঠিকিয়ে রাখতে তারা ব্যর্থ।

 

আপনি সারাদিন ব্যস্ত আপনার পকেটে অনেক টাকা। কিন্তু মাথাভর্তি হাজারো হতাশা। এই হতাশার কারণ ফ্যামিলি ঠিকিয়ে রাখতে না পারা। আপনার সন্তান আপনার খোজ নেয় না। আপনার পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের সাথে রাতে অন্তত একবার ডিনারে দেখাও হয় না। এভাবে কি আসলেই একটা ফ্যামিলি ঠিকিয়ে রাখা সম্ভব।

 

পশ্চিমাদের কথাই বলছি। তারা তো স্বাধীন। তাহলে তাদের এতো হাজার হাজার ডিভোর্স কেন। কেউ কারো সাথে দীর্ঘদিন থাকলে বোরড হয়ে যায়। তারা স্বাধীনতা খুজে!মা থাকে এক জায়গায় পিতা থাকে আরেক জায়গায় আর সন্তান বড় হচ্ছে কলেজ ইউনিভার্সিটি ডরমিটরিতে থেকে থেকে। অনেক সময় সন্তান নেশাগ্রস্ত হচ্ছে। নানা রকম অপকর্মে জড়িত হচ্ছে। হতাশায় সুইসাইড ও করছে।

 

দিনশেষে মানুষের মাথা গোজার ঠাই হচ্ছেন একজন নারী সেটা মা বোন বা স্ত্রীও হতে পারেন। এখন সেই সম্মানিত নারীকে অবাধ স্বাধীনতা দিতে গিয়ে আপনি অসাম্মিত করলেন কিংবা এমন ভাবে ঘর থেকে বের করে দিচ্ছেন আপনার সন্তান ও তার মায়ের সাথে অসাধারণ একটা শৈশব মিস করতে বসেছে! তাহলে এই স্বাধীনতার কি কোন লাভ হলো!ঘুরেফিরে যদি ফ্যামিলিই না ঠেকে তাহলে এইসব অবাধ স্বাধীনতা আসলে একটা নিছক ধোকা ছাড়া কিছুই নয়।

 

আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো। একজন নারীর দিনশেষে একটা নির্দিষ্ট অবস্থানেই সুন্দর দেখায় । মানানসই দেখায়। এখন একজন নারী যদি বাইরের কাজ কর‍তে গিয়েই এদিকে সন্তানকে আদর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করেন তাহলে সেটা তো অন্য রকম দেখায়। অনেক নারীই আছেন যারা বাইরের ও সংসারের কাজ করে ঠিকে আছেন কিন্তু একসাথে দুইটা হাল ধরতে গিয়ে অনেকেই বিলীন হয়ে যান।

 

একটি সংসার তো কত সুন্দর করেই একজন নারী আগলে রাখেন। সেই নারীকে অসম্মান করার স্পর্ধা তো কারো হবার কথা হয়৷ একজন নারী মা। একজন নারী কখনো বোন। একজন নারী কখনো জীবনসঙ্গিনী। নারীর অবদান তো সবক্ষেত্রেই বিদ্যমান। সেখানে স্বাধীনতার নাম করে আধতে আধুনিক সমাজ কি প্রতিফলন ঘটাতে চায় তা আমি ভেবে অবাক হই!

 

♦ শিক্ষার্থী ও প্রাবন্ধিক।