|

শিশুর সামাজিকীকরণ || রেক্স সালমান

সাহিত্য ডেস্ক: শিশুদের সামাজিকীকরণেরর প্রথম ধাপ পরিবার, দ্বিতীয় ধাপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ মাধ্যমদ্বয় শিশুদের মেধা বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় শিশু জন্মের কিছু বছরখানেক পর থেকেই মোবাইল ফোন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে! কিছু খেতে না চাইলে গান শুনিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে অথবা কার্টুন দেখিয়ে। তার ফলে শিশুরা দিন দিন মোবাইল ফোনের দিকে ঝিঁকে পড়ছে।

ইদানিং স্থানে স্থানে বেশকিছু প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডালপালা মেলে বসছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানের বদলে ব্যবসাটাই মুখ্য হয়ে ওঠে। আজকাল শিশুদেরকে মেধাবী তৈরির শ্রেণিপাঠ-কে গুরুত্ব না দিয়ে প্রাইভেট কোচিংয়ের দোকান কুলে বসানো হচ্ছে। ক্লাসই যে পাঠদানের উত্তম স্থান এটা এখন আর শিশুদের অভিভাবকরাও মানতে নারাজ। ছোট্ট একটা শিশু এখনকার সময়ে প্রতিদিন বইয়ের নামে ২৪/১৫ কেজি ওজন বহন করে চলে। অথচ একটা সময় ৩/৪টি বই নিয়েই শিশুরা স্কুলে যেতো। শিশুদের ব্রেইনে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে মেধার রাজ্যে টিকে থাকতে হলে ইয়া বড় বড় গাইড বই কিনতে হবে, পড়তে হবে।

আজকাল আর মসজিদ-মক্তবভিত্তিক পড়াশুনা নেই বললে চলে। অথচ আগেকার দিনে আমাদের সমাজের লেখাপড়ার প্রথম টার্নিং পয়েন্ট ছিলো এই মক্তবব্যবস্থা। এখান থেকে শিশুরা মৌলিক প্রাথমিক শিক্ষা, আচার-আচরণ, নৈতিকতার শিক্ষা লাভ করতে পারতো।

আজকাল বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেনের শিশুরাও কম্পিউটার, মোবাইল ফোনে বেশ আসক্ত হয়ে পড়েছে। একা একা ঘরে বসে গেইমস খেলে দিব্বি সময় কাটিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে সামাজিকীকরণ ব্যবস্থা বেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। অথচ একটা সময় বিদ্যালয়ে কিংবা বাড়িতে অবসর সময়ে মুরগিলড়াই, কাবাডি/হা-ডু-ডু, গোল্লাছুট খেলায় বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে যেতো।

আসুন! আমাদের নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে সামাজিকীকরণ করতে নৈতিকতার শিক্ষায় বলীয়ান করি। তাদের আদর্শ মানুষ হিসেব গড়ে তুলতে তথাকথিত ডিজিটাল পদ্ধতি পরিহার করে পূর্বের এনালগেই ফিরে যাই। শিশুকে শিক্ষার সাথে দীক্ষা দেই, জানার জন্য আগ্রহী করে তুলি। আমাদের মনে রাখতে হবে আজকের শিশুরাই আগামী দিনে এই দেশ, জাতি এবং বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে, কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, এম.সি কলেজ