|

একঝাঁক মেধাবী তরুণের স্বপ্নের অনলাইন গ্রুপ “বইয়ের পাতা”

শাহরিয়ার কবির: 

 

বই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ আত্মীয়,যার সঙ্গে কোনদিন ঝগড়া হয় না,কোনদিন মনোমালিন্য হয় না।হ্যাঁ কথাটি চির সত্য,বই কোনদিন আমাদের উপকার ব্যথিত অপকার করেনি।

 

একটি জাতিকে সুশিক্ষিত করার জন্য বইয়ের বিকল্প নেই।জীবনের তাগিদে,পেটের দায়ে আমাদের বিদ্যার্জন করতেই হয়,একাডেমিক লাইফে অনেক পড়াশুনা করতে হয়৷ কিন্তু একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি  আমাদের মনের সন্তুষ্টির জন্য প্রয়োজন ভিন্ন কিছুর,তাই তো ভিন্ন কিছু করতে সবাই পছন্দ করি, যেমন ধরেন -কেউ ছবি আঁকে,কেউ বই পড়ে,কেউ খেলাধুলা করে,কেউ আবার গান করে,কেউ সাংবাদিকতায় ইত্যাদি।বর্তমান এই প্রতিযোগিতার বিশ্বে সবাই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে ব্যস্থ,তাই এই চ্যালেঞ্জিং লাইফের সংগ্রামে ঠিকে থাকতে হলে জানার কোন বিকল্প নেই।

 

তাই বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মাঝে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে সিলেটের একঝাঁক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেধাবী তরুণের স্বপ্নের পথে যাত্রা।সেই স্বপ্নের নাম “বইয়ের পাতা “।বইয়ের পাতার কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ তারিখ,একটি ফেইসবুক  গ্রুপের মাধ্যমে।এ পর্যন্ত কয়েক হাজার পাঠক যুক্ত আছেন তাদের গ্রুপে।বর্তমানে ৭/৮ জনের মতো সদস্য সম্পৃক্ত আছেন,যারা সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্বায়িত্ব পালন করে থাকেন তারা হলেন রেজাউল করিম – শাবিপ্রবি,আবুল কালাম রায়হান-মদন মোহন কলেজ,বখতিয়ার আহমদ চৌধুরী- লিডিং ইউনিভার্সিটি,শাহরিয়ার কবির -এমসি কলেজ,নাঈম আহমদ চৌধুরী- বিয়ানী বাজার সরকারী কলেজ,আজিজুল হাসান নাঈম- শাবিপ্রবি,সাঈদ আহমদ- মদন মোহন কলেজ।

 

 

যারা বিনা স্বার্থে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন থেকে। কেউ পায়ে হেটে,কেউ আবার সাইকেলে চড়ে,কেউ মোটরবাইকে করে মানুষের বাসায় বাসায় গিয়ে বই পৌছে দেন৷ এতে করে প্রতি সপ্তাহে সিলেট শহরের কয়েকশ মানুষ সম্পুর্ন বিনা মূল্যে বই পড়ার সুযোগ পায়।

 

সপ্তাহিক শুক্রবার হচ্ছে তাদের “বুক ডে”

প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধায় ফেইসবুকে’র “বইয়ের পাতা” গ্রুপে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বইয়ের লিস্ট দেওয়া হয়,আর এতে বিভিন্ন পাঠক কমেন্ট করে যার যার পছন্দের বই অর্ডার করেন,২/১ দিনের মধ্যে পাঠকের হাতে পৌছে যায় বই। পড়া শেষ হলে এক সপ্তাহ পর আবার বইয়ের পাতার সদস্যরা সেই বইগুলো সংগ্রহ  করেন।

 

 

সুন্দর একটি সমাজ বিনির্মানের লক্ষ্যকে সামনে রেখে তাদের এই পদযাত্রা।মানুষের অন্ধকার মনকে প্রজ্জ্বলিত করে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের মাঝে আলো ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।