|

বিএনপি চায় না রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যাক : তথ্যমন্ত্রী

চেম্বার ডেস্ক: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি চায় না রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যাক। কারণ রোহিঙ্গারা থাকলে তাদের সুবিধা। তারা রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাজনীতি করতে পারে।’

আজ ঢাকায় সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে ‘ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর দেশের নীতিবিরোধী’-বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যের দিকে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ভাসানচরে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তাদের (রোহিঙ্গাদের) বাসস্থান নির্মাণ করা হয়েছে। এবং সমস্ত ‘সেফটি মেজার’ নিয়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নৌ-বাহিনীর সহায়তায় সেখানে এই কাজগুলো করা হয়েছে।

‘সেখানে যাওয়ার ক্ষেত্রে কারা বিরোধিতা করে আপনারা জানেন’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু এনজিও নিজের সুবিধার্থে এর বিরোধিতা করেছিল, সেই এনজিওগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন, যে রোহিঙ্গারা এখন যেখানে আছে, ভাসানচরে তার চেয়ে অনেক ভালো ব্যবস্থাপনা হচ্ছে। তারপরও তারা সেটির বিরোধিতা কেন করেন, এটি আমার বোধগম্য নয়।’ ‘কিশোর আলো’র অনুষ্ঠানে ছাত্র নিহতের ঘটনা মন্ত্রিপরিষদে ‘কিশোর আলো’র অনুষ্ঠানে কিশোর ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাত নিহত হবার ঘটনা নিয়ে আজ মন্ত্রিপরিষদে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজে কিশোর আলো পত্রিকার অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন ছাত্রের অসহায়ভাবে মৃত্যুর ঘটনা মন্ত্রিপরিষদে অনির্ধারিত আলোচনায় কয়েকজন উপস্থাপন করলে সবাই এ বিষয়ে উদ্বেগ ও হতাশা ব্যক্ত করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে প্রসঙ্গগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো হলো- স্কুলে যখন কিশোরদের নিয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান হয়, তখন সেখানে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল কি না। কারণ, রেসিডেন্সিয়াল মডেলের ছাত্র আবরার অনুষ্ঠানের জন্য টানানো বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এখানে কি গাফিলতি ছিল, সেটি একটি বিষয়। দ্বিতীয়তঃ একজন ছাত্র মারা গেছে তবুও অনুষ্ঠানটা চালিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত ঃ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট রাহাতকে কাছের হাসপাতালে না নিয়ে দূরবর্তী হাসপাতালে নেয়া হলো কেন? চতুর্থতঃ সেই ছাত্র মারা যাওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে হাসপাতাল থেকে। হাসপাতালে যখন তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তার পকেটে যখন রেসিডেন্সিয়াল মডেলের মনোগ্রাম দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্কুল বা কলেজের সাথে যোগাযোগ করে। আর আপনারা জানেন, কারো যদি এভাবে অপমৃত্যু হয়, তাহলে সেই লাশের অবশ্যই পোস্টমর্টেম করতে হয়। পোস্টমর্টেম না হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের লিখিত অনুমোদন লাগে। সেটি না নিয়ে পোস্টমর্টেম ছাড়াই লাশটি দাফন করা হয়েছিল। এই বিষয়গুলো সেখানে আলোচনা হয়েছে।

সাংবাদিকরা এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ গৃহীত হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত হবে, তদন্ত হয়ে কাদের গাফিলতি ছিল, কিভাবে এই ঘটনা ঘটেছে এবং কেন একজন ছাত্র মৃত্যুবরণ করার পরও অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়া হলো, সেই বিষয়গুলো নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসবে। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন এজন্য আমি এ বিষয়ে কিছুই বলতে চাই না।