সর্বশেষ
|
প্রকাশ: শুক্রবার, আপডেট : ২৬ মে ২০১৭ ০২:০৫ ঘণ্টা

গ্রিসের মানোলাদায় হাজারো বাংলাদেশীর মানবেতর জীবনযাপন

মো: ইসলাম উদ্দিন : মানোলাদা’ গ্রিসের রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ২৬০ কি.মি. দুরবর্তী একটি এলাকা।যেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কয়েক হাজার বাংলাদেশী। প্রশাসনিকভাবে পাত্রা
ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্গত মানোলাদা,লাপ্পা,সিলাফি এলাকাতে প্রচুর পরিমাণে স্ট্রবেরী জয়তুন এবং মাল্টার ফলন হয়। তবে স্ট্রবেরীর ফলনটাই সবচেয়ে বেশী যা ইউরুপের অনেক দেশে রপ্তানি করা হয়।জানুয়ারী থেকে শুরু হয়ে জুন পর্যন্ত চলে এই স্ট্রবেরী গাছের পরিচর্যা এবং ফল পারা। গাছগুলো যাতে অত্যধিক ঠাণ্ডা এবং বৃষ্টিপাতে নষ্ট না হয় এ জন্যে প্রতিটি জমিতে নির্মিত হয় ফারাঙ্গা। ফারাঙ্গা হচ্ছে লোহার শিকলের উপর ভরকরে তৈরী করা পলিথিন নির্মিত এক ধরনের ছাউনি বিশেষ স্তাপনা। যা দূর থেকে দেখলে আমাদের দেশে নৌকার উপর যে ঘোমটা দেওয়া হয় অনেকটা তার মতই মনেহয়। এইসব ক্ষেত খামারে যারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশ, পাকিস্তান,রুমানিয়া এবং বুলগেরিয়া থেকে আগত প্রবাসী। স্ট্রবেরীর মৌসুমে ক্ষেতের পাশেই ফারাঙ্গা নির্মাণ করে পুরো সময় অনেক কষ্ট করে দিনাতিপাত করেন শ্রমিকরা। পলিথিনের তৈরী এসব ফারাঙ্গাতে শীতের সময় তুষারপাত হলে প্রচণ্ড রকমের ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। -৫ কিংবা -৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় দালানকোঠায় হিটার চালিয়ে অবস্তান করাও যেখানে অনেক কষ্টকর সেখানে দেখা গেছে অনেক ফারাঙ্গায় বিদ্যুৎই নেই, গ্যাস নেই। আর হিটারতো অনেক দূরে। গোসলের জন্যে গরম পানির ব্যাবস্তা না থাকায় অনেক কষ্টকর কাজ সেরে অত্যধিক ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন না অনেকে।নেই ভালোমানের স্যানিটেশন ব্যাবস্তাও।স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের অভাব। যার দরুন গরমের সময় স্বাভাবিক ৩৫-৪০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় আরো উত্তপ্ত পলিথিনের ফারাঙ্গার ভিতরে প্রবেশ করলে মনেহয় যেন পুরোটা শরীর সিদ্ধ হয়ে যাবে।অনেক ক্ষেত্রে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যটি কিনতে হলে পায়ে হেটে দুই তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়।১৭ বছর আগে দেশত্যাগী মিলন মাতুব্বর বলেন, কোলের ছেলে আমার আজ এস এস সি পরীক্ষার্থী।মেয়েটাও বিয়ের উপযুক্ত হয়েগেছে।কাগজ হচ্ছেনা বলে দেশে যাচ্ছিনা।দেশে গিয়ে কি করবো ভাই।এইরকম জীবন আর ভালো লাগেনা।মেয়ের বিয়ে আর ছেলে কিছু একটা শুরু করলেই দেশে চলে যাবো। উন্নত জীবনমানের আশা আর নিরাপদ জীবনের খুজে ১০-১২ লক্ষ টাকা ব্যয় করে বাংলাদেশের অনেক তরুণ গ্রিসে এসেছেন।শহরে কাজের পর্যাপ্ত ব্যাবস্তা না থাকায় গ্রামের এসব কাজই তাদের একমাত্র বেচে থাকার অবলম্বন। মালয়েশিয়া থেকে আগত সিলেটের দক্ষিন সুরমার নজরুল ইসলাম রকুল বলেন, অনেক ভালা আছলাম মালয়েশিয়াত। রুজির পরিমান খম অইলেও খামর লাগি অত কষ্ট খরা লাগত না।

আব্দুল্লা ইউরুপ আইয়া এই ফ্রাউলার (স্ট্রবেরীর গ্রিক নাম) খামে খমরর অবস্তা শেষ। সারাদিন উন্দা অইয়া খাম খরা লাগে। আমার দুশমনও জেনো ইতাত না আয়। দেশো সমস্যা না থাকলে জীবনেও ইখানো আইতাম না।গ্রিসের বাংলাদেশ দুতাবাসের তথ্যমতে মানোলাদা ও তার পার্শবর্তী এলাকায় প্রায় তিন হাজারের মত বাংলাদেশী এইরকম সিজনাল ক্ষেতের কাজ করেন। এরকম অবর্ণনীয় দুঃখ দুর্দশায় দিনাতিপাত করে মাস শেষে প্রবাসীরা দেশে পাঠাচ্ছেন কষ্টের টাকা।নিজে সংগ্রাম করে হাসি মাখা মুখে কথা বলেন প্রবাসী ভাইয়েরা। হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন পরিবার ও আত্মীয় সজনের সাথে।