সর্বশেষ
|
প্রকাশ: বুধবার, আপডেট : ১৩ ডিসে ২০১৭ ১২:১২ ঘণ্টা

ইকবাল হোসাইন: এক ফুটন্ত গোলাপ॥সুলায়মান আল মাহমুদ

বিনোদন চেম্বার: বিশ্বাসের পথে নিজেকে তুলে ধরতেই পা রেখেছিলেন সংস্কৃতির জগতে। লক্ষ্য একটাই বাংলার সবুজ ভু-খন্ডে শুদ্ধ সংস্কৃতির জাগরণ সৃষ্টি করা। প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমে তিনি আজ সফলতার দ্বারপ্রান্তে। একতা, ভালোবাসা, ও মানবতাকে সংগীতের মুলমন্ত্র হিসেবে ধরে নিয়ে পথ চলা তরুনটি যেন আজ কলি থেকে ফোটা পুর্ণাঙ্গ একটি ফুটন্ত গোলাপ। বলছিলাম প্রতিভাবান কন্ঠশিল্পী ইকবাল হুসাইন জীবনের কথা। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের সীমানায় কাজ শুরু করা ইকবালের গন্ডি এখন বিশ্বময়। সুস্থ ধারার সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে ইকবাল হুসাইন জীবন আজ অসংখ্য সংস্কৃতি প্রেমিদের প্রেরণা।

ইকবাল হুসাইন জীবন যিনি ইকবাল এইচ জে হিসেবেও পরিচিত। তিনি মূলত একজন বাংলাদেশী কন্ঠশিল্পী। সংগীতের হাতেখড়ি মুলত ছোটবেলা থেকেই। সময়ের পরিক্রমায় তিনি এখন একজন স্বনামধন্য কন্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, প্রযোজক ও পরিচালক। ইকবাল এইচ জে সংগীতের জগত অর্থাৎ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নাশীদ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

গুণী এই কন্ঠশিল্পীর গানের জগতে পদচারণা শুরু হয় ২০০১ সালে। মেধা, মনন আর যোগ্যতার সমন্বয়ে অল্পদিনের মধ্যেই তিনি জাতীয় পর্যায়ের স্বনামধন্য একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনে যোগ দেন। কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি এর সহকারী পরিচালক এবং পরবর্তীতে সংগঠনের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠনে ব্যস্ত সময় পার করলেও তিনি নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যান। উচ্চ শিক্ষা লাভের মহৎ উদ্দেশ্যে ২০০৯ সালে তিনি ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান এবং লন্ডনের এংলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ সমাপ্ত করেন।

বিশ্বাসের পথে পরিচালিত সংগীতের জগতে লেগে থাকা মানুষটি কি সংস্কৃতি থেকে দুরে থাকতে পারেন। সেই আলোকেই বিবেকের আহ্বানে লন্ডনে অবস্থানকালীন ২০০৯ সালে তিনি রিভাইভাল কালচারাল গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। রিভাইভাল গ্রুপ সেখানে গান এবং নাটিকা পরিবেশন করতো। যার মূল থিম ছিল শান্তি, সম্প্রীতি  ও মানবতা। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি এ গ্রুপে কাজ করেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি রিভাইভাল গ্রুপে দায়িত্বশীলতার সাথে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

ব্রিটেন অবস্থানকালে তিনি হিজরী গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মাদ মুকিত এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। হিজরী গ্রুপ মুলত বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে শান্তি, সম্প্রীতি ও আন্তঃধর্মীয় বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকে। ইকবালের প্রথম এলবাম “মেইক মি ইউর ফ্রেন্ড” এর জন্য ইকবাল এবং মুকিত গ্রীষ্মের তাপ, শরতের বৃষ্টি, শীতের তুষারপাত উপেক্ষা করে প্রায় তিন বছর কাজ করেন। ইকবাল প্রাচ্য এবং প্রাশ্চাত্যের বিশাল সংখ্যক শ্রোতার ব্যবধান ঘুচানোর জন্য গানকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন। তার রিলিজ হওয়া প্রথম গান ছিল ‘লাব্বাইকা আল্লাহ’, যার গীতিকার হলেন তার বন্ধু হিজরি গ্রুপের মুহাম্মদ মুকিত। গানের ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল সৌদি আরব, ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং বাংলাদেশে।

ব্যাপক ঝুঁকি নিয়ে তিনি এর কাজ শুরু করেন। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই হাজার হাজার শ্রোতা ইউটিউবে গানটি দেখেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের ও বিভিন্ন ধর্মের শ্রোতাও রয়েছেন। ‘লাব্বাইকা আল্লাহ’ এর ব্যাপক সাফল্যের পর তিনি ও তার বন্ধুরা তার দ্বিতীয় একক ভিডিও গান ‘হাসবি রাব্বী’ রিলিজ করেন। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি ব্যাপক সাড়া পান। তার ফলোয়ার বেড়ে যায় অনেক। তার দ্বিতীয় গান ইউটিউবে ৮ মিলিয়নেরও বেশি ভিউজ অর্জন করে। এই দুটি গানই ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া সহ বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশনে প্রচার করা হয়।

শিল্পীর প্রথম এ্যালবাম-  “মেইক মি ইউর ফ্রেন্ড” এর জন্য তিনি নিজে এবং হিজরী গ্রুপ যৌথভাবে কাজ করে। ২০১৬ এর নভেম্বরে এর রিলিজ হয়। দশটি গান রয়েছে এ এ্যালবামে। এর প্রতিটি গান মিউজিক সহ এবং মিউজিক ছাড়া দুটি ভার্সন রয়েছে।  ইকবাল এইচ জে এর প্রথম এ্যালবাম  “মেইক মি ইউর ফ্রেন্ড” হিজরী গ্রুপ এবং ফান্ডামেন্টাল রেকর্ডস এর সহযোগিতায় “এরাউজার রেকর্ড বাংলাদেশ” এর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এটি ‘আই টিউনস এবং এমাজন মিউজিক এ বাংলাদেশীদের মধ্যে বেস্ট সেলিং হয়।

ইকবাল এইচ জে আন্তর্জাতিকভাবে অনেক স্টেইজ পারফর্ম করেন। এরমধ্যে তার অনুষ্ঠান ছিল বাংলাদেশের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, ব্রাডফোর্ড, সোয়ানসি, সৌদি আরবের মক্কা এবং মদীনা। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, বাল্টিমোর, মিশিগান, লস এঞ্জেলস এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এরমধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ছিল ইকনা ম্যাস কনভেনশন। সেখানে ত্রিশ হাজারেরও বেশি দর্শক উপস্থিতি ছিল।

ইকবাল যদিও বিশ্ব সঙ্গীতের নাশীদ নিয়ে কাজ করে থাকেন। তবুও শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য নিয়ে কাজ করতে পেরে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তুমি যদি চেষ্টা ও সাধনা কর তাহলে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তোমাকে অবশ্যই পথ দেখাবেন।’ ইকবাল বর্তমানে তার দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নাশীদ এ্যালবাম ”শো মি দ্যা ওয়ে” এর জন্য কাজ করছেন।

কুড়ি থেকে ফুটন্ত গোলাপে পরিনত হওয়া ইকবাল জে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা সংস্কৃতি কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জল দৃষ্ঠান্ত। সত্যকে বুকে ধারণ করে সুন্দরের পথে নিজেকে পরিচালনা করার জন্য নিজের প্রচেষ্টাও প্রধান ভুমিকা পালন করে থাকে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুস্থ সংস্কৃতিকে তুলে ধরার তাগিদে দেশের গন্ডি পেরিয়েও নিজেকে তুলে ধরার যে চেষ্টা ইকবাল এইচ জে করেছেন তা নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক।

এদেশে সুস্থ সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে যারা কাজ করে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে ইকবালও অন্যতম। সত্য ও সুন্দরের পথে নিজেকে পরিচালিত করে ইকবাল এইচ জে তাঁর কাংখিত লক্ষ্যে পৌছবেন একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এটাই আমার প্রত্যাশা। সুদ্ধ সংস্কৃতির আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বময়। মানবতার কল্যাণে ইকবালরা কাজ করে যাবেন আমাদের অগ্রজ হিসেবে। এই শুভ কামনা রইলো।

লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।