সর্বশেষ
|
প্রকাশ: শনিবার, আপডেট : ১০ জুন ২০১৭ ০১:০৬ ঘণ্টা

আমিরাতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু

মৌলভীবাজার: মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফয়সল আহমদ (৩৪) নামের এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তিনি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা। নিহতের পরিবারের দাবি, ফয়সল আত্মহত্যা করতে পারে না। ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত ৪ জুন রাত একটায় ফয়সল তার নবপরিণিতা স্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলেন এবং ৫ জুন বিকেল সাড়ে ৩টায় তার ব্যবসায়িক পার্টনার জামাল ফোনে ফয়সল আত্মহত্যা করেছে বলে জানায়। তবে ফয়সলের ভাই মুহিম আহমদ ও চাচা বাদশা মিয়ার কাছে দু’রকম বর্ণনা দেয় জামাল। উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের উত্তর কুলাউড়ার বাসিন্দা ফয়সল আহমদ ১৯৯৭ সালের শেষের দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান। সেখানে তার বড়ভাই মুহিম আহমদের সাথে ব্যবসায় শুরু করেন। সম্প্রতি মুহিম আহমদ দেশে ফিরে এলে ফয়সল একাই ব্যবসা সামাল দেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাসুল খাইমা শহরে তাদের ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিউ আল খাত নামক একটি ওয়েল্ডিং কারখানা করেন বছর দুয়েক আগে। তাতে ব্যবসায়িক পার্টনার হন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার নগরপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে জামাল উদ্দিন। এই জামাল উদ্দিন ব্যবসায়িক পার্টনার হওয়ার পর থেকে শুরু হয় নানারকম সমস্যা। ফয়সল আহমদ অতিসম্প্রতি দেশে আসেন। গত ২১ এপ্রিল তিনি বিয়ে করেন। নবপরিণিতা স্ত্রীকে রেখে ব্যবসায়িক ঝামেলার কারণে ৩মে তিনি দ্রুত ফিরে যান কর্ম¯’লে। ফয়সলের স্ত্রী মাছুমা আক্তার সোনিয়া শীর্ষ নিউজকে জানান, গত ৪ জুন রাত একটায় তার সাথে ফোনে কথা বলেন ফয়সল। এসময় ফয়সল জানান, জামাল খাবার কিনতে গেছে। জামাল খাবার নিয়ে ফিরে এসে ফোনে কার সাথে এত কথা বলে ফয়সলকে ধমক দেয়। ফয়সল স্ত্রীকে বাসায় গিয়ে ফোন দেবে বলে সংযোগ বি”িছন্ন করে দেন। আর কথা বলেননি স্ত্রীর সাথে। এরপর থেকে ৮ জুন পর্যন্ত ফয়সলের ফোনে রিং হয় কিš‘ কেউ রিসিভ করেনি। জামাল লোকটা খুব সুবিধার নয় বলে এর আগে ফয়সল তাকে জানিয়েছিলেন। তাছাড়া দেশে থাকতে ব্যবসার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একাধিকবার ফোনে জামালের সাথে তর্কবিতর্ক করেন। ফয়সলের ভাই মাছুম আহমদ শীর্ষ নিউজকে জানান, গত ৫ জুন বিকেল সাড়ে ৩টায় জামাল ফোন দিয়ে তাকে জানায়, ফয়সলের ফাঁস লেগেছে। রুমের দরজা খোলা ছিলো, সে বাসায় গিয়ে ঝুলন্ত লাশ দেখেছে। আবার ফয়সলের চাচা বাদশা মিয়াকে জামাল জানায়, বাসার গেইট বন্ধ ছিলো। দেয়াল টপকে, ছাদের উপর দিয়ে বাসায় প্রবেশ করে ফয়সলের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়েছে। জামালের কথায় গরমিল রয়েছে। তাছাড়া ফাঁস লাগার ছবি দেখে মনে হয়েছে এটা পরিকল্পিত হত্যাকা-। এর সাথে জামালের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঘটনার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ ফয়সলের লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ময়না তদন্ত শেষে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে লাশ।